যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশী শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের লাশ আগামী ৪ মে ঢাকায় পৌঁছাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তার লাশ ইতোমধ্যে ফিউনারেল হোমে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং দেশে পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, জামিল আহমেদ লিমনের লাশ আগামী ৪ মে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। এর আগে লিমনের প্রথম জানাযা গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকার ইসলামিক সোসাইটিতে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বাংলাদেশী শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। একই দিন পিএইচডির শিক্ষার্থী বাংলাদেশী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিও নিখোঁজ হন। বৃষ্টির মৃতদেহের অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২৬ এপ্রিল ফ্লোরিডার আই-২৭৫ ও ফোর্থ স্ট্রিট নর্থ সংলগ্ন জলাশয় থেকে লাশের অংশ উদ্ধার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডে লিমনের রুমমেট ২৪ বছর বয়সী মার্কিন তরুণ হিশাম সালেহ আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণির দুটি হত্যার অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, লাশটি ঢাকায় পাঠানো হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডো থেকে শনিবার (২ মে) রাত ৮টা ৫০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ০২২০ নম্বর ফ্লাইটে রওনা হবে।
যাত্রাপথে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একটি ট্রানজিট নির্ধারিত রয়েছে। এরপর এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ০৫৮২ নম্বর ফ্লাইটে করে লাশটি আগামী সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। এরপর লাশটি তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
১৪ উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িংয়ের সঙ্গে
বিমানের চুক্তি সই
হ স্টাফ রিপোর্টার
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড দ্যা বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০টি ওয়াইড-বডি ৭৮৭ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি ন্যারো-বডি ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এ চুক্তি সই হয়। এই চুক্তি সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈশ্বিক সংযোগ জোরদার এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। স্বাক্ষরিত চুক্তি নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত এই নতুন উড়োজাহাজগুলো বিমানের বহর আধুনিকীকরণ, অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে সহায়ক হবে যার মাধ্যমে বৈশ্বিক এভিয়েশন মার্কেটে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।
এভিয়েশন খাতের বাইরেও এই চুক্তির মাধ্যমে পর্যটন খাতের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রসার এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর ও দক্ষ জনবল উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিমান বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
এই নতুন উড়োজাহাজগুলো সংযোজনের ফলে যাত্রীদের জন্য আরও নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এই অর্জন বিমানের পাশাপাশি দেশের এভিয়েশন খাতের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক বিমান পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।