বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দলের ৭৭ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে কেউ যদি অন্যায়, অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হওয়ার প্রমাণ পান, তাহলে তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না, দলীয় শৃঙ্খলা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে বহিষ্কার করা হবে।

বুধবার (৪ জুন) গাজীপুরের একটি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সারাদেশের বাছাইকৃত থানা আমীরদের শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময়ের ত্যাগ, সংগ্রাম, জেল-জুলুম, নির্যাতন এবং অসংখ্য নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামী আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। শহীদদের রক্ত ও ত্যাগ জাতির কাছে যেমন মূল্যবান, তেমনি দলের জন্যও তা একটি পবিত্র আমানত। সেই আমানত রক্ষা করা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর দায়িত্ব।

তিনি বলেন, জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী কখনো আপস করবে না। সরকার যদি জনস্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে অথবা জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে সংসদের ভেতরে এবং রাজপথে সমানতালে শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের জনগণ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সরকারের ধারা অব্যাহত থাকার অভিযোগ উঠছে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, পিলখানা ট্র্যাজেডিতে ৫৭ জন মেধাবী ও চৌকস সেনা কর্মকর্তার হত্যাকাণ্ড জাতির ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়। এ ঘটনায় সরকার ও সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ ও স্বচ্ছ অবস্থান জাতি জানতে চায়।

জামায়াত আমীর বলেন, 'আমরা একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠন করতে চাই। এজন্য নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সততা, নৈতিকতা এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।'

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও অশালীন তথ্য প্রচার সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে। তাই যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার পাশাপাশি শালীনতা ও সত্যনিষ্ঠা বজায় রাখতে হবে।

শিক্ষা শিবিরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত থানা আমীর ও দায়িত্বশীল নেতারা অংশ নেন। বক্তারা সংগঠনের আদর্শিক শক্তি বৃদ্ধি, জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।