মুন্সী আবু আহনাফ
গত ২৬ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হলো আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশে নানা সেমিনার, র্যালি আর বক্তৃতার মাধ্যমে মাদকের কুফল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু একজন পেশাদার সাংবাদিক ও গবেষক হিসেবে এই অপরাধ জগতকে পর্যবেক্ষণ করার পর আমার মনে হয়, প্রথাগত এসব আনুষ্ঠানিকতা দিয়ে মাদক সৃষ্টি এই মহাসংকটকে আড়াল করা যাবে না। আজ আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র এমন এক চোরাবালিতে আটকে গেছে, যেখানে মাদকের নীল দংশন কেবল তরুণদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে না, বরং আমাদের সামাজিক কাঠামোর মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে চরম ও নৃশংস ‘যৌন সন্ত্রাস’ বা নারীদের ওপর পাশবিক সহিংসতার বিস্তৃতি ঘটেছে, তার নেপথ্যের ভয়ংকর চালিকাশক্তি অনুসন্ধান করলে একটি নামই বারবার সামনে আসে; তা হলো ‘ইয়াবা’ বা মাদক। আজকের এই প্রবন্ধে আমরা উদঘাটন করব কীভাবে একটি প্রতিবেশী দেশের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং আন্তর্জাতিক মাদক মাফিয়া চক্রের কারণে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি আজ এক ভয়াবহ যৌন ও সামাজিক সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে চলেছে।
এক. আমরা সাধারণত ভাবি, মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে কিছু আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন, চোরাকারবারি কিংবা স্থানীয় মাফিয়ারা। কিন্তু মাদক যখন কোনো দেশের সার্বভৌম সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা খোদ নিয়ন্ত্রণ করে, তখন তা সাধারণ মাফিয়াদের চেয়ে কোটি গুণ বেশি শক্তিশালী ও ভয়াবহ হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক গবেষণা সংস্থাগুলোর (যেমন: International Crisis Group Ges UNODC) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে যে লাখ লাখ পিস ইয়াবা ঢুকছে, তার উৎপাদন, বিতরণ এবং ব্যবসা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে মিয়ানমারের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী (টাতমাডো) এবং তাদের গোয়েন্দা শাখা সরাসরি শান রাজ্য ও ওয়া রাজ্যের ইয়াবা (মেথামফেটামিন) ল্যাবরেটরিগুলো থেকে কর আদায় করে এবং পরোক্ষভাবে বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করে। বিশ্বের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা মিয়ানমারের জান্তা সরকার ও তাদের সামরিক বাহিনী এই ইয়াবা বিক্রির কালো টাকা দিয়েই তাদের বিলাসবহুল জীবনযাপন বজায় রাখছে এবং পুরো দেশ চালাচ্ছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, এটি মিয়ানমার রাষ্ট্রের একটি সুপরিকল্পিত অর্থনৈতিক চাল। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এই অর্থ জান্তা সরকারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। মিয়ানমারের এই ভয়ঙ্কর রূপ অবশ্য নতুন কিছু নয়। এর আগে তারা বিশ্বখ্যাত ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল’ (মিয়ানমার, লাওস ও থাইল্যান্ডের সীমান্ত অঞ্চল) থেকে উৎপাদিত হেরোইন এবং আফিম পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিত। সেই মাদক বিক্রির শত শত কোটি ডলার তারা হংকং ও সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন ব্যাংকে জমা করত এবং তা দিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র কিনে নিজেদের দেশের জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালাত। সময়ের পরিবর্তনে হেরোইনের জায়গা এখন দখল করে নিয়েছে সিন্থেটিক ড্রাগ ‘ইয়াবা’ বা মেথামফেটামিন। বর্তমান সময়ে মিয়ানমারের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি দেশটির শান ও রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী (যেমন: আরাকান আর্মি বা ইউনাইটেড ওয়া ডেমোক্রেটিক আর্মি) তাদের নিজেদের যুদ্ধকালীন রসদ ও অস্ত্র কেনার জন্য এই ইয়াবা ব্যবসাকে প্রধান আয়ের উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা মাদক ব্যবসায় জড়ালে তা কতটা বিপজ্জনক হয়, তার আন্তর্জাতিক উদাহরণ হলো ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলা। সেখানে স্বৈরশাসক নিকোলাস মাদুরোর আমলে দেশটির সেনাবাহিনীর শীর্ষ জেনারেলদের নেতৃত্বে ‘কার্টেল অব দ্য সানস' (Cartel of the Suns) নামক মাদক চক্র গড়ে তোলা হয়েছিল, যারা রাষ্ট্রীয় প্রভাবে পুরো আমেরিকা ও ইউরোপে কোকেন পাচার করত। মিয়ানমার ঠিক একই মডেলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ইয়াবার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে।
দুই. মিয়ানমার থেকে উৎপাদিত এই ইয়াবা কেবল বাংলাদেশে নয়, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ‘আসিয়ান’ (ASEAN) ভুক্ত দেশগুলোতেও মহামারী আকারে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এই দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের একটি বড় তফাত রয়েছে। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। ভিয়েতনামে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি মাদক চোরাচালানের শাস্তি সরাসরি মৃত্যুদণ্ড। থাইল্যান্ডও তাদের সীমান্ত অঞ্চলে কঠোর সামরিক নজরদারি ও বিশেষায়িত টাস্কফোর্স দিয়ে এই ইয়াবা চোরাচালান রুখে দিয়েছে। অন্য দেশগুলো অত্যন্ত কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নিলেও বাংলাদেশ নানা কারণে তা পারছে না। আমাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, রাজনৈতিক দলের কিছু অসাধু নেতার যোগসাজশ, সীমান্তরক্ষীদের কিছু অসাধু সদস্য এবং দেশের ভেতরে থাকা প্রভাবশালী ‘গডফাদারদের’ আইনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার কারণে বাংলাদেশ এই ইয়াবা আগ্রাসন থামাতে ব্যর্থ হচ্ছে। টেকনাফ ও কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ পিস ইয়াবা অনায়াসে দেশের ভেতরে প্রবেশ করছে।
তিন. বাংলাদেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং বেসরকারি সংস্থা মানস (মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা) বিভিন্ন জরিপ পরিচালনা করেছে। এসব সরকারি ও বেসরকারি গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে মাদকের যে ভয়াবহ অর্থনৈতিক চিত্র পাওয়া যায়, তা নিম্নরূপ: বর্তমানে বাংলাদেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি। এর মধ্যে সিংহভাগই তরুণ-তরুণী, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ, দেশের সবচেয়ে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এই মরণনেশার কবলে পড়েছে। দেশে মাদকের অর্থনৈতিক বাজার অনেক বড়; বাংলাদেশে প্রতিদিন, প্রতি মাসে এবং প্রতি বছরে যে পরিমাণ মাদক বিক্রি হয়, তার হিসাব সাধারণ মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়। সারাদেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ কোটি থেকে ৬০ কোটি টাকার মাদক কেনাবেচা হয়। প্রতি মাসে এই বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১,৫০০ কোটি থেকে ১,৮০০ কোটি টাকা। বছরে বাংলাদেশে মাদকের বাজার প্রায় ১৮,০০০ কোটি থেকে ২০,০০০ কোটি টাকার। এই বিশাল পরিমাণ অর্থ সম্পূর্ণ অবৈধভাবে দেশের বাইরে পাচার হয়ে যাচ্ছে।
চার. বাংলাদেশের দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমার থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন সীমান্ত গলিয়ে মাদক প্রবেশ করছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর যত টাকার মাদক ঢুকে, তার সিংহভাগই ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ (আইস), যা মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে আসে। বার্ষিক হিসাবে মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকার মাদক বাংলাদেশে ঢোকে। ভারতের সীমান্ত দিয়ে প্রধানত ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা এবং বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় ইনজেকশন ও ট্যাবলেট বাংলাদেশে আসে। সরকারি ও বেসরকারি হিসাব মতে, ভারতের সীমান্ত দিয়ে প্রতি বছর প্রায় ৬,০০০ কোটি থেকে ৭,০০০ কোটি টাকার মাদক অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।
পাঁচ. মাদক ও ভয়াবহ যৌন সন্ত্রাসের মনস্তাত্ত্বিক সংযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফোকাস পয়েন্ট হলো; বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশুদের ওপর যে জঘন্য যৌন নিপীড়ন, গণধর্ষণ এবং যৌন বিকৃতির ঘটনাগুলো আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, তার সাথে ইয়াবার সম্পর্ক অনেক বেশি? মনোরোগ বিজ্ঞানী এবং অপরাধ গবেষকদের মতে, ইয়াবা হলো মূলত ‘মেথামফেটামিন’ এবং ‘ক্যাফেইন’-এর একটি ভয়ঙ্কর রাসায়নিক মিশ্রণ। এটি মানবদেহে প্রবেশের পর মস্তিষ্কে স্বাভাবিকের চেয়ে হাজার গুণ বেশি ‘ডোপামিন’ নামক হরমোন নিঃসৃত করে। এর ফলে সাময়িকভাবে একজন মানুষের ক্লান্তি দূর হয় এবং সে এক ধরনের অলীক ও তীব্র উত্তেজনার জগতে প্রবেশ করে। কিন্তু ইয়াবার সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, এটি মানুষের মস্তিষ্কের ‘প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স’ বা বিবেক, ভালো-মন্দের বিচার বুদ্ধি এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশটিকে সম্পূর্ণ অবশ ও অকার্যকর করে দেয়। একই সাথে এটি মানুষের ভেতরের পাশবিক ও আদিম যৌন কামনার উত্তেজনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। যখন একজন যুবকের শরীর ইয়াবার তীব্র যৌন উত্তেজনায় ফুটতে থাকে, অথচ তার মগজের বিবেক বা সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশটি বন্ধ থাকে, তখন সে পশুর চেয়েও অধম হয়ে ওঠে। তখন তার সামনে নিজের আপন বোন, শিশু কিংবা কোনো অসহায় নারী থাকলেও তার ভেতরের নৈতিক বাধা কাজ করে না। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে যতগুলো চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ ও পাশবিক যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, তার প্রায় প্রতিটির পেছনেই অপরাধীদের ইয়াবাসক্ত থাকার প্রমাণ পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইয়াবা যুবসমাজকে কেবল মাদকাসক্ত বানাচ্ছে না, তাদের এক একজন নৃশংস ‘যৌন সন্ত্রাসী’ বা খুনি হিসেবে গড়ে তুলছে।
ছয়. বাংলাদেশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২৪ থেকে ৩০ ধরনের মাদক ঢুকছে। এর মধ্যে প্রধান হলো; ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন, এলএসডি, এক্সট্যাসি এবং বিভিন্ন বিদেশি মদ ও বিয়ার। এই মাদকগুলো গ্রহণের ফলে মানবদেহে লিভার সিরোসিস, কিডনি বিকল হওয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগ, এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি চরমভাবে বৃদ্ধি পায়। মানসিক রোগের ক্ষেত্রে সিজোফ্রেনিয়া, তীব্র বিষণ্নতা, এবং প্যারানয়া (সবাইকে সন্দেহ করার রোগ) দেখা দেয়। ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক নেওয়ার কারণে এইচআইভি/এইডস এবং হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসের বিস্তার ঘটছে দ্রুত গতিতে। মাদকের সবচেয়ে বড় কোপটি পড়ে পরিবারের ওপর। মাদকাসক্ত ব্যক্তি যখন মাদকের টাকা জোগাড় করতে পারে না, তখন সে ঘরের জিনিসপত্র চুরি করে, মা-বাবা, স্ত্রীকে মারধর করে। মাদকাসক্ত স্বামীদের চরম পারিবারিক সহিংসতা এবং চরিত্রচ্যুতির কারণে প্রতি বছর বাংলাদেশে হাজার হাজার সংসার ভেঙে যাচ্ছে। বেসরকারি গবেষণা ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর মাদকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে প্রায় ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার সংসার ভেঙে যাচ্ছে (ডিভোর্স)। এছাড়া, মাদকের টাকার জন্য খুন, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের অপরাধে জড়িয়ে প্রতি বছর হাজার হাজার তরুণ কারাগারে যাচ্ছে। দেশের বর্তমান কারাগারগুলোতে যত হাজতি ও কয়েদি রয়েছে, তার প্রায় ৪৫% থেকে ৫০% মানুষই কোনো না কোনো মাদক মামলার আসামী। পরিশেষে, মাদকের এই ভয়াবহ চিত্র প্রমাণ করে যে, এটি আর কেবল কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়; এটি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামাজিক অস্তিত্বের জন্য এক বিরাট হুমকি। মিয়ানমারের মতো একটি বৈরী প্রতিবেশী দেশ যখন সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করতে এবং সমাজে যৌন সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিতে তাদের রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করছে, তখন আমাদের প্রতিরোধও হতে হবে যুদ্ধকালীন মেজাজে। কেবল সীমান্ত পাহারা দিয়ে বা চুনোপুঁটি মাদক বিক্রেতাদের গ্রেফতার করে এই মহামারী ঠেকানো যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন: ১. মাদক চোরাচালানের সাথে যুক্ত দেশের ভেতরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ‘গডফাদারদের’ কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা। ২. সীমান্তে ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তির নজরদারি বৃদ্ধি করা এবং মাদক আইনের কঠোর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করা। ৩. প্রতিটি পরিবারে সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়া এবং তাদের একাকীত্ব দূর করে সুস্থ সাংস্কৃতিক কার্যকলাপে যুক্ত করা। আমাদের মনে রাখতে হবে, আজ যদি আমরা এই ইয়াবা ও মাদকের নীল থাবা থেকে আমাদের যুবসমাজকে রক্ষা করতে না পারি, তবে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বড় বড় মেগা প্রজেক্ট; সবকিছুই অর্থহীন হয়ে পড়বে। এখনই সময় দল-মত নির্বিশেষে মাদকের বিরুদ্ধে এক চূড়ান্ত ও সামাজিক যুদ্ধ ঘোষণা করার।