বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিমের সাবেক সভাপতি জিসান আহমেদ প্রধান দীর্ঘ ২০ ঘণ্টারও অধিক সময় ধরে নিখোঁজ থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ এবং অনতিবিলম্বে তাকে নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

আজ ১২ জুন (শুক্রবার) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে শিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, “গতকাল (১১ জুন) রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ শেষে বের হওয়ার পর থেকে জিসান আহমেদ প্রধান নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার পরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে অবহিত করা হয়। তবে কোনো ফল না পাওয়ায় আজ ভোরে পরিবারের সদস্যরা পুনরায় থানায় যান। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর সকাল ৯টায় তারা পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান। উদ্ধারের বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলেও পুলিশ দায়সারা আচরণ করে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকে। ঘটনার ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত জিসানের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। আমরা আশা করেছিলাম, ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অথচ পুলিশের এমন রহস্যজনক আচরণ উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।”

ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “একটি চক্র জিসানকে অপহরণ করে তাঁর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করছে এবং যে ফোন নম্বর ব্যবহার করে মুক্তিপণ চাওয়া হচ্ছে, সেটিও এখনও সক্রিয় রয়েছে। অপহরণকারীদের ফোন নম্বরসহ সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রশাসনের কাছে থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেও পুলিশ হেডকোয়ার্টার, পুলিশের আইজিপি ও র‍্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সন্ধান ও উদ্ধারের দাবি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাই আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তার পেছনে কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না কিংবা অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না—তা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।”

ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, “স্বৈরাচার-উত্তর বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা ও পুলিশের রহস্যজনক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনা দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভঙ্গুর অবস্থারই প্রতিফলন। আমরা অবিলম্বে জিসান আহমেদ প্রধানকে অক্ষত ও নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”