তীব্র যানবাহন ও চরম জনবলসংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) পরিবহন খাত। প্রায় ১০ হাজার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে যানবাহন রয়েছে মাত্র ২৫টি। এর বিপরীতে স্থায়ী চালক আছেন মাত্র ১১ জন। জনবলসংকট এতটাই প্রকট যে, হেল্পার এমনকি নিরাপত্তাকর্মী দিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস পরিচালনা করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

সীমিত বাসসেবা, লোকবলের ঘাটতি এবং নড়বড়ে ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের কারণে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অথচ এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো কার্যকর ভ্রুক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে তীব্র জ্বালানি সংকটের অজুহাতে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটের বাস শিডিউলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ দিন পার হলেও সেই গুরুত্বপূর্ণ ট্রিপটি এখনো সার্ভিসে ফেরানো হয়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাকিবুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,"আমাদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিবহন ভাতা হিসেবে বছরে ১০০০ টাকা বাধ্যতামূলকভাবে নিলেও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ক্লাস শেষ হতে একটু দেরি হলেই আমরা বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের শেষ বাসটি মিস করি। ৫টা ১০ মিনিটের বাসটি বন্ধ থাকায় সন্ধ্যাকালীন ৬টা ৪৫ মিনিটের বাসে তীব্র জায়গা সংকট ও উপচে পড়া ভিড় তৈরি হচ্ছে। আমরা দ্রুত পূর্বের শিডিউল চালুর দাবি জানাচ্ছি।"

পরিবহন খাতের এই নড়বড়ে অবস্থার কারণে নিয়মিত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। গত ১১ জুন (২০২৬) বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজের ওপর ববির ভাড়ায় চালিত একটি ফিটনেসবিহীন বিআরটিসি বাসের সাথে 'আইকনিক এক্সপ্রেস' বাসের গুরুতর সংঘর্ষ হয়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও উভয় বাসই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, নতুনবাজার রুটে ২৮ আসনের মিনিবাসে প্রতিদিন ৪৫ থেকে ৫০ জন, কিংবা তারও বেশি শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বাসের দরজায় ঝুলে বা এক পায়ের ওপর ভর দিয়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত যেন এখন 'দড়ির ওপর হাঁটার মতো' এক অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা। মাত্র কয়েক দিন আগেই এভাবে দরজায় ঝুলে যাওয়ার সময় বাস থেকে পড়ে গিয়ে এক শিক্ষার্থীর হাত ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বাসে জায়গা না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচ করে ইজিবাইক ও রিকশায় দূরপথ পাড়ি দিচ্ছেন, যা মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সংকট নিয়ে ২০২৩-২৪ সেশনের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইউসূফ আলী তাওহিদ বলেন,"প্রায় দশ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ও বিআরটিসি থেকে ভাড়াকৃত মিলে মোট ২৩টি বাস থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। বিআরটিসির দ্বিতল বাসে প্রায়ই শিক্ষার্থীদের দাঁড়িয়ে বা দরজায় ঝুলে যাতায়াত করতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর এমন কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটলে তার পূর্ণ দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই নিতে হবে।"

সার্বিক বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি— অনতিবিলম্বে পর্যাপ্ত চালক নিয়োগ দেওয়া, বন্ধ হয়ে যাওয়া বাসের শিডিউল পুনরায় চালু করা এবং ফিটনেসবিহীন বাস বর্জন করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।