চকরিয়া সংবাদদাতা: চকরিয়া উপজেলার পূর্ববড়ভেওলা সিকদারপাড়া জয়নাল আবেদীন মহিউচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা, সিকদারপাড়া ছলিমুল উলুম এতিমখানা ও হেফজখানা, হযরত খদিজাতুল কোবরা (রাঃ) বালিকা এতিমখানা ও বায়তুশ শরফ আল্লামা আবদুল হাই নদভী নূরানী মাদ্রাসার বার্ষিক সভা, পুরস্কার বিতরণ ও ইছালে ছাওয়াব মাহফিল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে চার অধিবেশনে সম্পন্ন হয়েছে।
বাদ মাগরিব তৃতীয় অধিবেশনের প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন রাহবারে বায়তুশ শরফ আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী (মা.জি.আ)। তিনি বলেন, নৈতিক অবক্ষয়, পারস্পরিক দলাদলি এবং দ্বীন থেকে দূরত্বের কারণে মুসলিম উম্মাহ আজ দিশেহারা, নির্যাতিত-নিপীড়িত। জায়নবাদ ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের করালগ্রাসে ধ্বংস হচ্ছে একের পর এক সমৃদ্ধ মুসলিম জনপদ। তিনি বলেন, মুসলিম উম্মাহর পরস্পর ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং নিজেদের একতা ও সংহতি রক্ষা করা ইসলামের একটি মৌলিক ফরয। আল্লাহর রাসূলের শরীয়ত এবং তাঁর আদর্শকে সমর্পিত চিত্তে স্বীকার করা এবং বাস্তবজীবনে চর্চা করা তাওহীদ ও ঈমান বিল্লাহর পর ইসলামের সবচেয়ে বড় ফরয। সুতরাং সুন্নাহর অনুসরণ যেমন দ্বীনের বিধান, তেমনি উম্মাহর ঐক্য ও সংহতি রক্ষা এবং বিভেদ ও অনৈক্য থেকে বেঁচে থাকাও দ্বীনেরই বিধান।
বাদ এশা চতুর্থ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ.ফ.ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমানে মুসলিম উম্মাহ্ মহাসংকটের ক্রান্তিকাল এবং এক বিপর্যয়কর পর্যায় অতিক্রম করছে। যে উম্মাহ ছিল একদিন বিশ্ব গড়ার ভূমিকায় এক প্রাণবন্ত, গতিশীল, জ্ঞানদীপ্ত ও কর্মচঞ্চল কারিগর, সেই উম্মাহ্ এখন নিশ্চল, জরাজীর্ণ এবং অনগ্রসর সভ্যতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, যে মুসলিম উম্মাহ একসময় অত্যাচারীর জুলুম-অত্যাচার বন্ধ করেছে, অধিকার বঞ্চিতের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে, বিশ্বব্যাপী শান্তি, গণতন্ত্র, সভ্যতা ও মানবিক সংস্কৃতির পতাকা উড়িয়েছে, সেই মুসলিম উম্মাহ বর্তমান বিশ্বে একচতুর্থাংশ জনশক্তি এবং অর্ধেকেরও বেশি প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকারী হবার পরও প্রতিটি ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের কাছে পরাধীন, পরাভূত। তিনি বলেন৷ এই কঠিন সময়ে ঈমান ও তাওহীদের ওপর অটল থাকা, ধৈর্য ধারণ, কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণ, পারস্পরিক ঐক্য স্থাপন এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে উত্তরণের পথ খোঁজা অপরিহার্য।
প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ হাফেজ মোহাম্মদ আমান উল্লাহর সভাপতিত্বে চার অধিবেশনে অনুষ্ঠিত সকাল দশটায় প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শাহী নেওয়াজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৈয়ব আলী, মাওলানা ছলাহ উদ্দিন বেলাল ও হাসানুল আবেদীন চৌধুরী (শুভ)।
বাদ জুমা দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অধ্যাপক শাব্বির আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন চকরিয়া আমজাদিয়া রফিকুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মাওলানা এনামুল হক, বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদের সহ-দপ্তর সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, হারুন অর রশীদ। এতে আলোচনা পেশ করেন চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ফারুক হোছাইন, অধ্যাপক মাওলানা নঈম কাদের, মাওলানা কাজী শিহাব উদ্দিন, ড. মাওলানা মুহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ মুঈন ও মাওলানা মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ বিন এনাম।
বাদ মাগরিব তৃতীয় অধিবেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক মাস্টার মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জয়নাল আবেদীন মহিউচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি বিশিষ্ট ব্যাংকার মুহাম্মদ ওমর ফারুক সজিব। এতে অতিথি ছিলেন বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদের যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্ব মোহাম্মদ হারুন শেঠ ও অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব মোহাম্মদ নুরুল কবীর।
বাদ এশা চতুর্থ অধিবেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটির লংগদু মাইনি উত্তর গাথাছড়া বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের পরিচালক হাফেজ মাওলানা এসএম ফোরকান আহমদ, খাগড়াছড়ি বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ আবু ওসমান। তাকরির পেশ করেন মজলিসুল ওলামা বাংলাদেশ এর মহাসচিব মাওলানা মামুনুর রশীদ নূরী, বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু সালেহ মুহাম্মদ ছলীমুল্লাহ, পেকুয়া রাজাখালী বেশারাতুল উলুম ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা কফিল উদ্দিন ফারুক, ঢাকা দক্ষিণখান মাদ্রাসাতুর রহমান আল-আরাবিয়া’র প্রধান মুফতি ও শিক্ষা সচিব মাওলানা মোহাম্মদ ওবাইদুল্লাহ। এসময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবু নইম আজাদ, অধ্যাপক রুুহুল আমিন ও প্রিন্সিপাল রফিকুল ইসলাম।