বেগমগঞ্জ (নোয়াখালী) সংবাদদাতা : বেগমগঞ্জ উপজেলার ৫নং ছয়ানি ইউনিয়নে সম্প্রতি বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই মামলায় ১নং আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর ১৫ জন নেতাকর্মীর নামও যুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ৫নং ছয়ানি ইউনিয়ন ও ১নং আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও কীভাবে অন্য ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের এ মামলায় জড়ানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে “গায়েবি মামলা” হিসেবে আখ্যায়িত করে এটিকে অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলছেন।
এ ঘটনায় ১নং আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, অতীতে আওয়ামী লীগের আমলে যেসব রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারই পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে।
এদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলায় আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার পেছনে বেগমগঞ্জ উপজেলার ১নং আমানউল্লাহপুরের বিএনপি নেতা সুমন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি দাবি করেন, মামলার নথি প্রস্তুতের সময় বিএনপি নেতা সুমন চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনার বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বেগমগঞ্জ উপজেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবু জাহেদ। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বেগমগঞ্জ উপজেলায় আবারও ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। গায়েবি মামলার মাধ্যমে নিরীহ নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে।’
তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। এবং নির্দোষ সকল জামায়াত-শিবিরের নেতা কর্মীদের নাম মামলা থেকে প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।