আহসানুল হক জুয়েল, নিকলী কিশোরগঞ্জ : ইতিমধ্যেই কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার মঙ্গলবাড়িয়া গ্রাম সহ আশপাশের এলাকায় গাছ থেকে লিচু ভাঙার উৎসব শুরু হয়েছে। সারাদেশে মঙ্গলবাড়িয়ার লিচুর খ্যাতি রয়েছে। রসাল, সুমিষ্ট, সুন্দর গন্ধ ও গাঢ় গোলাপি রঙের কারণে এ লিচুর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার লিচুর ফলনও হয়েছে ভালো। বাম্পার ফলনও বলা যেতে পারে। এবছর লিচু বিক্রি করে প্রায় ১০ কোটি টাকার বাণিজ্য হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ।

মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের লিচু বিক্রি হচ্ছে ঢাকা, সিলেট, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ময়মনসিংহ সহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া পৌর এলাকার পূর্ব-দক্ষিণে অবস্থিত ছোট্ট গ্রাম মঙ্গলবাড়িয়া। ইতিহাস থেকে জানা গেছে প্রায় দুইশ বছর আগে সুদূর চীন থেকে কোনো এক ব্যক্তি প্রথমে দুইটি লিচুর চারা গাছ এনে লাগায় কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পৌর এলাকর মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে। অধিক ফলন ও রসে টসটসে ছোট বিচির কারণে এ লিচু এলাকায় আস্তে আস্তে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিছু দিনের মধ্যেই এ জাতের লিচুর কলম চারা ছড়িয়ে পড়ে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে। অধিক ফলন ও লাভজনক দাম পাওয়ায় দ্রুতই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে ওঠে গ্রামবাসী। বর্তমানে এলাকার বাড়িতে বাড়িতে শোভা পাচ্ছে এ লিচুর গাছ। এ গ্রামের নামেই লিচুর নাম রাখা হয়েছে ‘মঙ্গলবাড়িয়া লিচু’।

স্থানীয় বাজারে অনেক জাতের লিচু উঠলেও ক্রেতাদের চোখ এখন রসে টসটসে মঙ্গলবাড়িয়ার লিচুর দিকে। এ লিচুর স্বাদ নেওয়ার জন্য মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে ভিড় করেন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার লিচুপ্রেমী ক্রেতারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, গাছে থাকতেই এ লিচু বিক্রি হয় চড়া দামে। প্রতি একশ ভালো মানে লিচু বর্তমানে বিক্রি হয় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়। মঙ্গলবাড়িয়ার অধিকাংশ লিচু বাগানই আগাম বিক্রি হয়ে যায়। কিছু পাইকার অগ্রিম গাছ কিনে অতিরিক্ত দামে লিচু বিক্রি করে থাকেন। এবারও ভালো দাম পাবেন বলে চাষি ও পাইকারা মনে করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, লিচু বাগানগুলোতে উপসহকারী কৃষি অফিসার নিয়মিত গিয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাছাড়াও এবছর এ গ্রামের লিচু চাষিদের নিয়ে লিচু সমিতি করা হয়েছে। এই লিচু সমিতির উদ্যোগে কিভাবে ফলন ভালো করা যায় সে বিষয়ে চাষিদের নিয়ে কর্মশালাও করা হয়েছে।