মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা : পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অবৈধভাবে চলছে ইটভাটা। অবৈধ এসব ইটভাটা বন্ধে হাইকোর্ট নির্দেশ দিলেও তা মানা হচ্ছে না। বরং ইটের মৌসুম শেষের দিকে ভাটাগুলোতে কাজ চলছে জোরেশোরে। আর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও দেখা যাচ্ছে না পরিবেশ অধিদপ্তরকে।
একাধিক ভাটার মালিক জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করেই চলছে অবৈধ ভাটার কার্যক্রম। অবৈধ এসব ইটভাটায় প্রকাশ্যে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। কয়লার দাম বাড়তি থাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করে দেদারে লাকড়ি-কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে ফসলি জমি, বৃক্ষ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। মির্জাপুর উপজেলায় মোট ১১১টি ইটভাটা রয়েছে। ১১১ ইটভাটার মধ্যে ৬৬টির নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র।
বুধবার দুপুরে মির্জাপুর উপজেলার,গোড়াই ইউপির সৈয়দপুর অবস্থিত কেবিএম ব্রিকস , বহুরিয়া ইউপির রান ব্রিকস ইট ভাটায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেইন রাস্তার ধারেই শত শত মেট্রিকটন কাঠ জমা করে রাখা আছে।
১১১টি ইটভাটার চারপাশে মজুত করে রাখা হয়েছে কয়েকশ মন লাকড়ি। ভাটাতে কাঠ পোড়ানোর ফলে চিমনি দিয়ে প্রচ- বেগে ধোঁয়া বের হবে। আর সেই ধোঁয়া স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ আশপাশের বসতি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।
অপর দিকে এসব ইটভাটাতে ৩ থেকে ৪ ধরনের ফরমা ব্যবহার করা হয়। এতে ইটের সাইজ ছোট-বড় করে প্রতিনিয়তই ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়ে থাকে।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ অনুযায়ী লাইসেন্স ব্যতীত কোনো ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা করা যায় না এবং জ্বালানি হিসেবে ইটভাটায় কাঠের ব্যবহার নিষিদ্ধেরও বিধান রয়েছে। এ ছাড়াও কৃষিজমিতে ইটভাটা তৈরির আইনগত বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু আইন ও বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙগুলি দেখিয়ে অপরিকল্পিতভাবে ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে মির্জাপুরের বিভিন্ন স্থানে। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র, জেলা প্রশাসকের অনুমোদন বা লাইসেন্স না নিয়ে ইটভাটা চালু করা যাবে না। কিন্তু মির্জাপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করেই চলছে অবৈধ ভাটার কার্যক্রম । এমনকি ইটভাটাগুলো জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে আমসহ বিভিন্ন গাছের কাঠ।
পরিবেশ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, মির্জাপুরে ১১১টি ইটভাটা রয়েছে। যার ৬৬টির পরিবেশ অধিদপ্তরের হালনাগাদ ছাড়পত্র নেই। এসব অবৈধ ইটভাটা বন্ধে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ ইটভাটা বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি অবগত স্থানীয় প্রশাসন। খুব শ্রীঘ্রই এসব ইটভাটা বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমাদের ম্যানেজ করে অবৈধ ইটভাটা কার্যক্রম শুরুর অভিযোগটি মিথ্যা।
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা আছে। মির্জাপুর ইউএনওকে এসব ইটভাটা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হবে।