পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের নদী, পুকুর ও টিউবওয়েলসহ পানির প্রাকৃতিক উৎসগুলোতে লবণাক্ততা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে পাইকগাছা ও কয়রা অঞ্চলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে পাইকগাছা অফিসার্স ক্লাবে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ‘লিডার্স’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত “পানি সংলাপ”-এ বক্তারা এসব উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।
সংলাপে অংশগ্রহণকারী বক্তারা উপকূলীয় জীবনযাত্রার ওপর লবণাক্ততার বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরেন
সুপেয় পানির অভাবে মানুষ বাধ্য হয়ে দূষিত ও লবণাক্ত পানি ব্যবহার করছে। ফলে ডায়রিয়া, চর্মরোগ এবং পানিবাহিত নানা রোগের প্রকোপ বাড়ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মধ্যে পুষ্টিহীনতা প্রকট হচ্ছে। জমিতে লবণাক্ততা বাড়ায় কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে নদী ভাঙন এবং বন উজাড় হওয়ায় মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। উপকূলীয় এই জনপদে সুপেয় পানির অভাব সরাসরি খাদ্য নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলছে।
উন্নয়ন সংস্থা লিডার্সের টিম লিডার শারমিনারা লীনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। প্রজেক্ট অফিসার আফজাল হোসেনের সঞ্চালনায় সংলাপে
সোলাদানা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিযুষ কান্তি মন্ডল, মিজানুর রহমান। লিডার্সের সিএম আলমগীর হোসেন, অনন্যা বৈরাগী, কাজল রেখা ও রেশমা সুলতানা। সুফলভোগীদের পক্ষ থেকে সুভাষ ঢালী, ত্রেজা গোমেজ, রিনা খাতুন ও ললিতা প্রমুখ।
সংলাপ থেকে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও উপকূলীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা দ্রুত সুপেয় পানির স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে এবং লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও টেকসই সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো দাবি জানান।