কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : বৈশাখের শুরুতেই তীব্র দাবদাহে পুড়ছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা। প্রখর রোদ আর দমবন্ধ করা গরমে হাঁসফাঁস করছে জনজীবন। এ অবস্থায় দুর্ভোগ বাড়িয়েছে লোডশেডিং। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টায় ১০/১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। গত ২১ এপ্যিল থেকে এসএসসি, দাখিল পরীক্ষা আরম্ভ হয়েছে কিন্ত বিদ্যুতের এ ধরনের ভয়াবহ অবস্থা থাকলে কি হবে এ প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের কাছে। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত থাকায় লোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা এখন মানুষের সহনীয় সীমা অতিক্রম করছে। একসময় ফ্যানের বাতাসেই স্বস্তি মিলতো, এখন এসির বাতাসেও তেমন আরাম পাওয়া যায় না। সাতক্ষীরায় তুলনামূলক সচ্ছল পরিবারগুলোও বাধ্য হয়ে এসির দিকে ঝুঁকছে, যা আর বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে এ অঞ্চলের আবহাওয়া অনেকটাই মধ্যপ্রাচ্যের মতো হয়ে উঠছে। ফলে শিশুদের মধ্যে ভাইরাসজনিত রোগ ও চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ছে।’
আর গ্রামের গরীব, মধ্যবিত্ত ও নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ গুলো পড়েছে বেপাকে। জীবন-জীবিকার তাগিদে সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে রাতে যে একটু ঘুমাবে সে সময় শুরু হচ্ছে বিদ্যুৎতের লোডশেডিং।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ঘন ঘন লোডশেডিং জনজীবনকে করে তুলেছে অসহনীয়। দিন-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শহর থেকে গ্রাম- সব শ্রেণিপেশার মানুষ। সাতক্ষীরা কালিগঞ্জর মুকুন্দপুর গ্রামের মোঃ আব্দুর রহমান তিতি একজন খেটে খাওয়া মানুষ পরিবারে তার মা-বাবাসহ পাঁচ জন সদস্য আয় করেন তিনি একা। তিনি দেনিক সংগ্রমকে বলেন, তীব্র গরমে বিদ্যুৎ সংকটকে চরম দুর্ভোগ হিসেবে তুলে ধরেন। পরিশ্রম করে ঘরে এসে দেখি বিদ্যুৎ নেই, তখন বেড়ে যায় আরো যন্ত্রণা।
নাজিমগঞ্জ গ্রামের এক বৃদ্ধ নাম তার ছলেমান মোড়ল (৭৫) তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। রাতে ঘুমাতে পারেন না, বারবার উঠে বসতে হয়। বয়সের ভারে এমন কষ্ট সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।