রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা : রাণীনগরে ইরি-বোরো ধান কাটা-মাড়াই পুরোদমে শুরু হতেই বাজারে ধানের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি ধানের দাম প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ¯’ানীয় কৃষকরা। একদিকে ঝড়-বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি, অন্যদিকে বাজারে ন্যায্যমূল্যের অভাব সব মিলিয়ে কৃষকদের চোখে-মুখে এখন চরম হতাশার ছাপ।

উপজেলার বৃহত্তম ধানের হাট ‘আবাদপুকুর’ ঘুরে দেখা গেছে, ধানের মানভেদে নতুন জিরা শাইল জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮৫০ থেকে ৯৫০/১০৫০ টাকা মণ দরে। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগেও এই ধানের দাম ছিল অনেক বেশি। কৃষকদের অভিযোগ-সার, কীটনাশক ও ধান কাটার শ্রমিকের উচ্চমূল্যের কারণে বর্তমান দামে ধান বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই উঠবে না।

আড়তদার ও মিল মালিকরা দাম কমার পেছনে তিনটি প্রধান কারণকে দায়ী করছেন। গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় পাকা ধান জমিতে নুয়ে পড়েছে। কৃষকরা বাধ্য হয়ে ভেজা ধান বাজারে আনছেন, যা সংরক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চাতাল ও মিলে ধান শুকানো বা চাল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে আড়তদার ও মহাজনরা ভেজা ধান কিনতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

সরকারিভাবে ধান-চাল কেনা এখনও শুরু না হওয়ায় এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়েছে।

শিয়ালা গ্রামের কৃষক নাঈম ইসলাম জানান, তিনি ৬ বিঘা জমিতে ধান চাষ করে বিঘাপ্রতি ২৪ মণ ফলন পেলেও বৃষ্টির কারণে ধানের রং নষ্ট হওয়ায় কাঙ্খিত দাম পাচ্ছেন না। দুধীয়াগ্রামের কৃষক কামাল হোসেন বলেন, এবার ৪৩ বিঘা জমিতে জিরার ধান লাগিয়েছি বাম্পার ফলন হলেও বাজারে দর অনেক কম। এই দরে ধান বিক্রি করলে আমাদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।”