আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা : বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক না থাকায় টানা চার মাস ধরে বন্ধ রয়েছে জরুরি রোগী পরিবহন সেবা। এতে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন উপজেলার প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ।

জানা গেছে, কয়েক বছর আগে স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়মিত রোগী সেবায় ব্যবহৃত হতো। কিন্তু গত ডিসেম্বর মাসে চালক মো. জব্বার হাওলাদার অসুস্থ হয়ে পড়লে সেবায় বিঘœ ঘটে। পরবর্তীতে চিকিৎসা শেষে কর্মস্থলে ফিরলেও চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই চালকের অভাবে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা।

বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার না হওয়ায় অকেজো হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে জরুরি মুহূর্তে রোগী পরিবহনের জন্য কোনো বিকল্প সরকারি ব্যবস্থা না থাকায় রোগী ও তাদের স্বজনরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস কিংবা প্রাইভেটকারের ওপর নির্ভর করছেন।

এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে, অন্যদিকে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার ঝুঁকিতে বাড়ছে মৃত্যুর আশঙ্কা। বিশেষ করে গরিব ও অসহায় রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, শুধুমাত্র একজন চালকের অভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা চরম অব্যবস্থাপনার প্রমাণ। এটি শুধু অবহেলা নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানায়, বিষয়টি লিখিতভাবে বরিশাল স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরে জানানো হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ অবস্থায় স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নতুন চালক নিয়োগ দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা হোক। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।