মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : মুরাদনগর উপজেলায় শতবর্ষী খাল প্রভাবশালী বন্ধ করে দেওয়ায় পানিতে ডুবে গেছে শত শত একর জমির ধান। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন শত শত প্রান্তিক ইরি চাষি। ভুক্তভোগীরা বলেছেন, সম্প্রতি সাহেদাগোপ গ্রামের মৃত. আ. মালেক ছেলে প্রভাবশালী নাছির উদ্দীন ও ছোট্ট মাস্টার গংগরা ওই খালের মুখে মাটি ফেলে বন্ধ করে মাটির নিচে তিন ইঞ্চি প্লাস্টিকের পাইপ দিয়েছে। ফলে গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কয়েক গ্রামের বিল ভরে পানি ফুসে উঠেছে। ওই এলাকার ভুক্তভোগী কৃষকরা পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থার আবেদন জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন অধিদপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন।

ক্ষতিতগ্রস্তদের অভিযোগে জানা গেছে, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা ২নং আকুবপুর ইউনিয়ন কাশিমপুর গ্রামের বিল, বাঐখাঁ গ্রামের বিল, চিড়া মুড়ী বিল, হরের পাড় গ্রামের বিল, সাহেদাগোপ গ্রামের বিল ও সুলতানপুর গ্রামের বিলে রোপন করা ধান এখন পানির নিচে। নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ধানী জমিতে থইথই করছে পানি। এসব বিল থেকে আগে পানি বের হতো। কিন্তু কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি পানি বের হওয়ার জায়গা বিভিন্নভাবে ভরাট করার ফলে হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন পান্তিক চাষিরা। যেসব ব্যক্তি বিল বা খালের মুখ বন্ধ করে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি করেছেন, তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি উঠেছে।

নীয়রা জানান, কাশিমপুর গ্রামের বিল, বাঐখাঁ গ্রামের বিল, চিড়া মুড়ী বিল, হরের পাড় গ্রামের বিল, সাহেদাগোপ গ্রামের বিল ও সুলতানপুর গ্রামের বিলে ধান চাষের জন্য বিখ্যাত। বৃষ্টির পানি বের হওয়ার জন্য ৪শ’ বছরের পুরানো একটি ছোট্ট খাল (ক্যানাল) ছিল। প্রতি বছর বর্ষা হলে ক্যানাল দিয়ে পানি বের হয়ে তা অদের খাল হয়ে তিতাস নদীতে যেত। সম্প্রতি ওই খালের মুখে মাটি ফেলে বন্ধ করা হয়। ফলে গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বিল ভরে পানি ফুসে উঠেছে। এই বিলে ধান চাষ করা একাধিক চাষি বলেন, গুটিকয়েক ব্যক্তির কারণে শত শত একর ধান পানির নিচে ডুবে পচে নষ্ট হচ্ছে। এই ক্ষতি কৃষকের পুরুণ করবেন কিভাবে?

স্থানীয় বলীঘর গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম, মজিবুর রহমান, মমিন মিয়া, সাহেদাগোপ গ্রামের কবির হোসেন, বাতেন মিয়া, রাজনগর গ্রামের মুর্শিদ মিয়া, বাঐখাঁ গ্রামের শফিক উদ্দিন, তাজুল ইসলাম, কাশিমপুর গ্রামের অবিদ মেম্বার ও হরের পাড় গ্রামের হান্নান মিয়াসহ অনেকেই বলেন, যারা খালের মুখে মাটি ভরাট করে দিয়েছে। তাদের বিচার হওয়া দরকার। খালটির মুখ বন্ধ করায় বৃষ্টির পানি বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের এই বিলে ৫শ’ একর জমির ধান পানির নিচে। ওদের কারণে শত শত কৃষকের ফসল পানির নিচে। এ বছর বিল রোপা আমন ধান পচে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

মুরাদনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ পাভেল খাঁন পাপ্পু বলেন, মুরাদনগর উপজেলার ২নং আকুবপুর ইউনিয়নের বলীঘর গ্রামের দক্ষিণ-পশ্চিম মাঠে একটি সরকারি খাল কতিপয় ব্যক্তিরা প্রায় ২০ মিটার মাটি দিয়ে ভরাট করে দখল করার ফলে ধান ও অন্যান্য ফসলের প্রায় ৫শ’ একর জমি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। ধানের জমিগুলোতে ৮-২০ ইঞ্চি পর্যন্ত পানি জমে থাকার ফলে কম্বাইন্ড হার্ভেস্টারের মাধ্যমে পাকা বোরোধান কর্তন সম্ভব হচ্ছে না। শ্রমিক সংকট ও মৌসুমি শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় শতশত বিঘার বোরোধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।