সাতকানিয়ায় অভিযান চালিয়ে অভিনব কৌশলে পাচারকৃত ১৯ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ চারজন রোহিঙ্গা মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১৫)। তারা ইয়াবাগুলো পেটে লুকিয়ে বহন করছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত রোববার (৩ মে) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ঠাকুরদিঘী বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। র‌্যাব-১৫ (সিপিসি-৩, বান্দরবান ক্যাম্প) জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে—একটি বড় মাদকের চালান বাসযোগে চট্টগ্রাম হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে।

এরই প্রেক্ষিতে নির্দিষ্টস্থানে অবস্থান নিয়ে র‌্যাব সদস্যরা বাসটি থামিয়ে যাত্রীদের মধ্যে সন্দেহভাজন চারজনকে শনাক্ত করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পেটে ইয়াবা বহনের বিষয়টি স্বীকার করে। পরবর্তীতে তাদের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ভর্তি করা হয়। এক্স-রে ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর তাদের পেট থেকে পায়ুপথে নির্গত ইয়াবার পুটলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার মোট সংখ্যা ১৯ হাজার ৫০০ পিস। র‌্যাব জানায়, আটককৃতরা বিশেষ কৌশলে ইয়াবাগুলো ছোট ছোট পলিথিনে প্যাকেট করে টেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় মুখ দিয়ে গিলে পেটে জমা রাখত। পরে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে তা মলত্যাগের মাধ্যমে বের করে সরবরাহ করত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা যাত্রীবাহী বাসকে পরিবহন মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করত।

র‌্যাব -১৫ (সিপিসি-৩, বান্দরবান ক্যাম্প)-এর স্কোয়াড্রন লিডার মোহাম্মদ মেহেদী আলম জানান, আটকরা দীর্ঘদিন ধরে এই কৌশলে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত এবং কক্সবাজার থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত ইয়াবা সরবরাহ করে আসছিল।

তিনি আরও বলেন, “মাদক পাচার রোধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

চৌগাছায় পুলিশের অভিযানে নারীসহ ৯ মাদককারবারি আটক ॥ মদ উদ্ধার

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা: যশোরের চৌগাছায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে নারীসহ ৯ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। আটক আসামীদের নিকট থেকে ২০ (বিশ) লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) দুপুরে আটক আসামীদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। থানা সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোররাতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পুলিশ মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশ উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের পুড়াপাড়া খালপাড়ায় অভিযান চালিয়ে লনু মিয়ার ছেলে আক্তার হোসেন (৪০) ও ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের ইদ্রাকপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে মনিরুল ইসলাম মনির (৩৪) আটক করেন। এ সময় তাদের নিকট থেকে ২০ (বিশ) লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চৌগাছা থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে উপজেলার জগদিশপুর ইউনিয়নের দক্ষিন সাগর গ্রামের রহিম উদ্দীনের স্ত্রী রিনা খাতুন (৩৫), নারায়নপুর ইউনিয়নের বুন্দলীতলা গ্রামের কদমত আলী মন্ডলের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৩২), চাঁদপাড়া গ্রামের জামাল উদ্দীনের স্ত্রী সুমিতা খাতুন হাসি (৩৩), নারায়নপুর গ্রামের শাহিনুর রহমানের ছেলে শামীম হোসেন (২৮), ধুলীয়ানী ইউনিয়নের কাবিলপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের স্ত্রী ছকিনা খাতুন (৩৯), চৌগাছা পৌর শহরের ঋষিপাড়ার রুমন দাসের ছেলে নিপা দাস (২৯), মৃত শান্তি রাম দাসের ছেলে রুমন দাসকে (৫০) আটক করা হয়। আটক আসামীদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে বলে জানাযায়। আটক আসামীদেরকে সোমবার বিকেলে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এ অভিযান অব্যহত থাকবে। আটক নআসামীদেরকে সোমবার বিকেলে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মোংলা : মোংলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে একটি মাদক মামলার দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়া সড়ক এলাকার খ্রিষ্টান কবরস্থান সংলগ্ন স্থান থেকে ৪৪ পিস ইয়াবাসহ আরমান ফরাজি নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একই এলাকার বাসিন্দা শাহদত হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম মিলনকে এজাহারভুক্ত আসামী করা হলেও তিনি ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন। পরবর্তীতে সোমবার (৪ মে) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোংলা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মিরাজের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের মাধ্যমে পলাতক আসামী সাইফুল ইসলাম মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদমদীঘি (বগুড়া) : বগুড়ার আদমদীঘিতে তিনজন মাদক কারবারির জেল-জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট। গত রোববার (৩ মে) বিকেলে মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে আদমদীঘির উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট মাসুমা বেগম এই রায় দেন। দন্ডপ্রাপ্ত হলো, আক্কেলপুর উপজেলার কোলামনিপুর গ্রামের হামিদ মন্ডলের ছেলে বুলবুল হোসেন (২৮), আদমদীঘি উপজেলার জিনইর গ্রামের এনামুল হকের ছেলে রাকিবুল ইসলাম (২৪) ও নিমাইদীঘি গ্রামের হাবিল উদ্দিনের ছেলে আব্দুল আলিম (৩৮)।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সান্তাহার সার্কেলের পরিদর্শক আসলাম আলী মন্ডল জানান, গত রোববার বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাসুমা বেগমের নেতৃত্বে বগুড়ার ‘খ’ সার্কেলের একটি টিম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে উল্লেখিত তিনজন মাদক কারবারিকে ২পিস ট্যাবেন্টাডল ও ২শ’ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমান আদালতের

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা: কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় ইয়াবাসহ আল মামুন নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে হোমনা থানা পুলিশ। শনিবার (০২ মে) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হোমনা থানার এসআই তাপস কুমার ও এএসআই আল আমিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপজেলার আছাদপুর ইউনিয়নের আছাদপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আল মামুন আছাদপুর গ্রামের মো. নাজিম উদ্দিনের ছেলে। হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে।