আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা : আদমদীঘির সান্তাহার এক গৃহবধুকে জোড়পুর্বক একটি বাসায় তুলে নিয়ে শারিরীক নির্যাতন করার পর আটক রেখে পালাক্রমে ধর্ষন করার ঘটনা ঘটেছে। তাকে উদ্ধার করে অসুস্থ অবস্থায় ওই নির্যাতিত গৃহবধুকে আদমদীঘি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত বুধবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে আদমদীঘির সান্তাহার লকু কলোনী এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় নির্যাতিত গৃহবধু নিজেই বাদি হয়ে আদমদীঘি থানায় ৫ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষন সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ রাতেই মুল আসামীসহ ৪জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, সান্তাহার পোস্ট অফিস পাড়ার নুর ইসলাম বাবুর ছেলে সাহেদুল ইসলাম সাহেদ (২১), শেখ আব্দুল বারেকের মেয়ে রুনা বেগম (৪৫), সান্তাহার পুর্ব লকু কলোনীর তহিদুল ইসলামের ছেলে মিঠু হোসেন (২৭) ও একই এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে হৃদয় হোসেন (২০)। ভিকটিম ওই গৃহবধুকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বগুড়া আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

মামলা সুত্রে জানাযায়, বাদিনী উক্ত গৃহবধু তার স্বামীসহ আদমদীঘির সান্তাহার পুর্ব লকু কলোনীর জনৈক কবিরের বাসায় ভারাটিয়া হিসাবে বসবাস করে আসছিল। গত ২২ এপ্রিল পাশের বাসার জনৈক আইয়ুব আলীর মেয়ে রহস্যজনক নিখোঁজ হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিন দিবাগত রাত ১১ টার দিকে আইয়ুব আলী বাদিনী গৃহবধু ও তার স্বামীকে সান্তাহার রেলগেটে জনৈক ছিদ্দিকের দোকানে ডেকে নিয়ে তার মেয়েকে বের করে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে মামলার আসামী মিঠু হোসেন ও হৃদয় হোসেন বাদি গৃহবধু ও তার স্বামীকে মারধর করতে থাকলে স্বামী ভয়ে পালিয়ে যায়। এসময় মামলার আসামী রুনা বেগম ভিকটিমকে মারধর করে তার বাসায় নিয়ে একটি ঘরে আটক রেখে পাহাড়া দেয়। রাত ২ টার দিকে আটক রাখা ঘরে আসামী সাহেদুল ইসলাম সাহেদ ও আজান আলী নামের দুইজন প্রবেশ করে জোড়পুর্বক পালাক্রমে ধর্ষনের ঘটনা ঘটনায় এবং বিষয়টি কাউকে না বলার হুমকি দিয়ে তারা চলে যায। পরদিন গত বৃহস্পতিবার সকালে গৃহবধুর স্বামী ও স্বজনরা তার স্ত্রীকে অসুস্থ্য অবস্থায় উদ্ধার করে আদমদীঘি হাসপাতালে ভর্তি করান। আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়া মামলা দায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গতকাল শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে ও নির্যাতিত ওই গৃহবধুকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামীকে গ্রেপ্তার তৎপরতা চলছে।