দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা: তীব্র গরমে জনজীবন যখন এমনিতেই নাজুক, তখন দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মানুষের দুর্ভোগকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। পৌর শহরে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকলেও উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কোথাও কোথাও দিনে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। অনেক হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে তা সচল রাখা যাচ্ছে না। বাজারেও জ্বালানির সংকট থাকায় বিকল্প ব্যবস্থাও অনেকাংশে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরাই সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনরাত একাকার হয়ে যাওয়া এই ভ্যাপসা গরমে ঘরে থাকা যেমন কষ্টকর, বাইরে যাওয়া তেমনি দুর্বিষহ। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাব্যবস্থার এমন নাজুক অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অনেকেই।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে জরুরি রোগীদের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”স্থানীয় তুজারভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মাসুম রানা অভিযোগ করে বলেন, “দাউদকান্দি পল্লী বিদ্যুতের হেল্পলাইন নম্বরে কল দিলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফোন ধরেন না। কয়েকবার কল দেওয়ার পর মনে হয় নম্বরটি ব্লক করে দেওয়া হয়েছে, কারণ পরে বারবার চেষ্টা করলেও নম্বর ব্যস্ত দেখায়।” এমন আচরণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।এদিকে বিদ্যুৎনির্ভর ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন চরম সংকটে।
প্রতিদিনের লোডশেডিংয়ে তাদের ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়ছে। ফ্রিজ, কম্পিউটার, সেলাই মেশিন ও পানির পাম্প বন্ধ থাকায় অনেকের কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।দাউদকান্দি পবিস-৩ অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) প্রকৌশলী মোজাম্মেল হোসেন জানান, উপজেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৬ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬ থেকে ৭ মেগাওয়াট। এই ঘাটতির কারণে ছয়টি লাইনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৪ থেকে ৫টি লাইনে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ফলে গড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বা তারও বেশি লোডশেডিং চলছে।তিনি আরও বলেন, এ সমস্যা শুধু দাউদকান্দির নয়; সারা দেশের পল্লী বিদ্যুৎ ব্যবস্থাতেই একই ধরনের সংকট বিরাজ করছে।