শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শেভরনের পাইপলাইনে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ স্বামী বশির মিয়ার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার পারভীনও মারা গেছেন। গত বুধবার ঢাকা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আইসিউতে থাকা অবস্থায় দগ্ধ ফারজানা আক্তার পারভীন এর মৃত্যু হয়। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার স্বামী বশির মিয়া ও তার ছেলে রেজায়ান মিয়া।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সালেক মিয়া বলেন, দগ্ধ বাবা-ছেলের মৃত্যুর পর জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় বুধবার সকালে অগ্নিদগ্ধ রেজোয়ানের মা পারভীনও মারা যান। শেভরন বাংলাদেশের মিডিয়া ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপক শেখ জাহিদুর রহমান বলেন, দুর্বৃত্তরা পাইপলাইনে ছিদ্র করে তেল চুরির চেষ্টা চালায়। ফলে তেল ছড়িয়ে পড়ে ছড়ার পানিতে মিশে যায় এবং পরে পানির ওপর ভাসমান তেল থেকে আগুন ধরে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শেভরন কোম্পানি ‘দুর্বৃত্তরা তেল চুরির উদ্দেশ্যে এ কাজ করেছে’ মর্মে বিবৃতি প্রদান, শোক প্রকাশ এবং শ্রীমঙ্গল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি এবং একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইউএনও ইসলাম উদ্দিন জানান, শেভরনের পাইপলাইনে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে প্রশাসন।এ ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে গঠিত তদন্ত কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করা হয়েছে। এছাড়া পেট্রোবাংলা এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। তবে নিহত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে এখন পর্যন্ত নগদ ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।