ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা : কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবস্থিত দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দরের ব্যবসায়িক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন আমদানি-রফতানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি কাজের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার মাঝেই বেল্ট মেশিনে সীমিত পরিসরে পাথর ভাঙার কাজ চলছে। প্রতিটি ডিপোতে জমে আছে ভাঙা পাথরের স্তুপ। বাজারে পাথরের চাহিদা থাকলেও জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রাক চলাচল কমে যাওয়ায় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা পাথর লোড দিতে পারছেন না এবং বেচাকেনা কমে যাওয়ায় শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি সংকটের কারণে অধিকাংশ ডিপোর পাথর লোডিং মেশিন অলস পড়ে আছে। ট্রাক ও ড্রাম ট্রাকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় স্থলবন্দরে এক ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দিনমজুর শ্রমিকরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির পর থেকেই জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে গেছে। ডিপোগুলোতে প্রয়োজনীয় তেল পাওয়া যাচ্ছে না, আর খুচরা বাজারেও তেলের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। পেট্রোল পাম্প থেকে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম। ট্রাক মালিকদের ভাষ্য, পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় তারা ট্রাকে পণ্য বোঝাই করতে পারছেন না। অনেক ট্রাক এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে খালি পড়ে আছে। ট্রাক টার্মিনালে খালি ট্রাকের দীর্ঘ সারি এখন নিত্যদিনের চিত্র।

পাথর ভাঙা ও লোড-আনলোড শ্রমিক হাশেম আলী, আছর উদ্দিন ও আব্দুর রহিম জানান, নিয়মিত কাজ না থাকায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

ট্রাকচালক রবিউল ইসলাম বলেন, “তেল সংকটের কারণে ট্রিপের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে কষ্টে আছি।”

স্থলবন্দরের কমিশন এজেন্ট (ব্যবসায়ী) জহুরুল ইসলাম জানান, “আগে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি ট্রাকে পাথর দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হতো। বর্তমানে দিনে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫টি ট্রাক পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।”

ট্রাক মালিক আরিফ হোসেন বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে একটি ট্রাক তিন দিনেও একটি ট্রিপ দিতে পারছে না।”

আমদানি-রফতানিকারক ব্যবসায়ী আবু হেনা মাসুম জানান, পাথরের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পরিবহন সংকটের কারণে বিক্রি কমে গেছে।

সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারি পরিচালক আমিনুল হক জানান, স্থলবন্দরে এলসি আগের মতোই হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় শতাধিক ট্রাক ভারত থেকে বন্দরে ঢুকছে। বাইরে হয়তো বেচাকেনা একটু কমেছে। কিন্তু রাজস্ব আয়ে এর কোন প্রভাব পড়েনি।