দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা: কুমিল্লার দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলায় প্রশাসনের কার্যক্রমে সুস্পষ্ট পরিবর্তন এনে স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছেন দুই নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরীন আক্তার ও মৌসুমী আক্তার। তাদের দূরদর্শী, দক্ষ ও মাঠমুখী নেতৃত্বে উভয় উপজেলায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা পেতে শুরু করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশ বিরাজ করার ফলে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ফলে দাউদকান্দি ও মেঘনা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-১ আসনের ১টি পৌরসভা ও ২৩টি ইউনিয়নে কোনো বড় ধরনের সহিংসতা হয়নি এবং সাধারণ ভোটার নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।নাছরীন আক্তার দাউদকান্দি উপজেলার ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি উপজেলা প্রশাসনের প্রধান হিসেবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা—সব খাতেই সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছেন। মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেন এবং স্পষ্টভাবে জানান যে জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো গাফিলতি সহ্য করা হবে না। তিনি মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি অংশে যানজট নিরসনে ব্যবস্থা গ্রহণ ও দাউদকান্দি-গোমতী সেতু টোল সংক্রান্ত সমস্যার প্রতিও গুরুত্ব দেন। বাল্যবিবাহ রোধ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে তিনি স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থা ফিরিয়ে আনছেন।স্থানীয় বিএনপি নেতা সোহেল মোল্লা বলেন, নাছরীন আক্তারকে দক্ষ ও মানবিক প্রশাসক হিসেবে প্রশংসা করেছেন। নাছরীন আক্তার বলেন, “জনগণের জানমাল রক্ষা করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। আমরা চাই মানুষ নিরাপদে বেঁচে থাকতে পারে এবং নির্বিঘ্নে তাদের নাগরিক অধিকার ভোগ করতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা সবসময় সতর্ক এবং উন্নয়নমূলক কাজ সচ্ছতার ভিত্তিতে তদারকি করছি।”মেঘনা উপজেলার ইউএনও মৌসুমী আক্তারও নিয়মিত ইউনিয়ন পর্যায়ে পরিদর্শন, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর ভূমিকা রাখার জন্য স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত। তার নেতৃত্বে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিত্য বেড়েছে। মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে জনজীবনে স্বাভাবিক গতি বজায় থাকে এবং অপরাধ দমনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়। মৌসুমী আক্তার জানান, “সব ইউনিয়নকে নিয়ে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উন্নয়নমুখী মেঘনা গড়ে তুলতে চাই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি—দুর্নীতি বা অনিয়মের সঙ্গে আপস করা হবে না।”মেঘনার লুটেরচর ও পুরান বাটেরা এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন—এখানে এখন নিরাপত্তা অনেক ভালো, রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ হচ্ছে এবং ইউএনওরা সরাসরি মাঠে গিয়ে কাজ করছেন। সচেতন মহল মনে করেন, দুই নারী ইউএনওর পেশাদারিত্ব, সততা, দৃঢ়তা ও জনগণমুখী প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গিই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তারা বলেন, মাঠভিত্তিক প্রশাসন, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান যদি ধারাবাহিক রাখা হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন বজায় থাকবে।নতুন সরকারের নির্দেশনায় জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়নে নাছরীন আক্তার ও মৌসুমী আক্তার উভয়ই কার্যকর্মে সক্রিয়ভাবে লিপ্ত আছেন—ভেজাল ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, অপচিকিৎসা প্রতিরোধ, অবৈধ ড্রেজার ও বালুমহল উচ্ছেদ, সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নিরসন ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে জনবান্ধব প্রশাসন দেখানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে দাউদকান্দি ও মেঘনায় দুই নারী ইউএনওর নেতৃত্বে যে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়েছে, তা নিরাপত্তা ও উন্নয়নের সুসংগঠিত প্রতিফলন হিসেবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।