এম এ কাইয়ুম চৌধুরী, শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা : আধুনিকতায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি। সেই সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে গাড়িয়াল পেশাও। যা একদা ছিল বংশ পরম্পরায়। গ্রামগঞ্জে পায়ে চলার আঁকাবাঁকা মেঠো পথে ধীরে ধীরে বয়ে চলা গরুর গাড়ি এখন আর চোখে পড়ে না-মানুষ পশুর শ্রমে চালিত গরুর গাড়ি। দুই চাকাবিশিষ্ট এই গাড়ি গরু বা বলদ টেনে নিয়ে যেত। গরুর গাড়িচালককে বলা হতো গাড়িয়াল।
জানা গেছে, দুই যুগ আগেও গ্রামাঞ্চলে গরুর গাড়ি ছাড়া বিয়ে কল্পনাও করা যেত না। বরপক্ষের লোকজন ১০ থেকে ১২টি গরুর গাড়ি সাজিয়ে নিয়ে যেত। বরযাত্রীর গাড়ি দেখলে মেঠো পথের দুধারে এক নজর দেখার জন্য দাঁড়িয়ে পড়ত গ্রাম বাংলার মানুষ। আর শিশু-কিশোররা বড়যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করে নিত খাজা, বাতাসা, গজা, কদমা, জিলাপি, খুরমা কেনার মূল্য, বকশিশ বা পুরস্কার। আর গাড়িয়ালের পিছনে বসে থাকা বরের ভগ্নিপতি বা আত্মীয়স্বজন সবার উদ্দেশে বলতে থাকত দোয়া করবেন। ওরা জানি সুখে থাকে। গ্রামের বউ-ঝিদের নাইওর যেতে গরুর গাড়ি ব্যবহৃত হতো অহরহ। সে সময় যে সব পরিবারে গরুর গাড়ি ছিল, তাদের কদর ছিল বেশি।
জানা গেছে, গরুর গাড়ির ইতিহাস সুপ্রাচীন। সিন্ধু অববাহিকা ও ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে গরুর গাড়ির প্রচলন শুরু হয় খ্রিস্টের জন্মের ১৬০০ থেকে ১৫০০ বছর আগে। পর্যায়ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম বাঙলার আনাচে কানাচে। মানুষ যা কোন দিন কল্পনা করেনি তাই এখন পাচ্ছে হাতের কাছেই ইট-পাথরের মত মানুষও হয়ে পড়ছে যান্ত্রিক। মানুষ তার নিজস্ব ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলছে। তারই ধারাবাহিকতায় এক সময়ের ব্যাপক জনপ্রিয় গ্রাম-বাঙলা ও বাঙালির ঐতিহ্য এবং যোগাযোগ ও মালামাল বহনের প্রধান বাহন গরুর গাড়ি কালের বিবর্তনে আজ হারিয়ে যাবার পথে।
এ ব্যাপারে শিবালয় উপজেলার কাষ্টসাগড়া গ্রামের মোঃ আক্কাছ আলী বলেন, গরুর গাড়ি আগের দিনে যানবাহন ও মালামাল পরিবহনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু কালের আবর্তে গরুর গাড়ি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
গ্রামের হোসেন আলী নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, আমরা আগে বাব দাদার সাথে তৎকালীন মহকুমা মানিকগঞ্জে (বর্তমান জেলা) যেতাম গরুর গাড়িতে চড়ে। সেই গাড়ি আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে গেছে।