আল্লাহর জমীনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আর্ত-মানবতার মুক্তি এবং ক্ষুধা, দারিদ্র ও বৈষম্যমুক্ত স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ইসলামী আন্দোলনের সকল স্তরের জনশক্তিকে অধিকতর কর্মতৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের স্থানীয় একটি মিলনায়তনে শেরেবাংলা নগর উত্তর থানা জামায়াত আয়োজিত এক ইউনিট দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। থানা আমীর আব্দুল আউয়াল আজমের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পরিচালক ডা. শফিউর রহমান, মোহাম্মদপুর জোনের টিম সদস্য আজহার মুন্সি, থানা নায়েবে আমীর শাহ আজিজুর রহমান তরুণ, থানা বায়তুলমাল সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল হালিম ও থানা অফিস সম্পাদক তৌহিদুর রহমান প্রমুখ।

সেলিম উদ্দিন বলেন, বিগত নির্বাচনে জনগণ জামায়াতের পক্ষে ব্যাপকভাবে গণরায় প্রদান করেছে। কিন্তু সুক্ষ্ম ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মাধ্যমে আমাদেরকে প্রাপ্য ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। নির্বাচনে কারচুপীর মাধ্যমে ক্ষমতায় গিয়ে ক্ষমতাসীনরা গণরায় অগ্রাহ্য করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তারা অদৃশ্য শক্তির ইশারায় এসব করছে। তাই জনগণ এ পুতুল সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাই দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই আগামী দিনে আদর্শ, মানবতাবাদী, জনবান্ধব, দুর্নীতি ও অবক্ষয়মুক্ত রাজনৈতিক শক্তিকে ক্ষমতায় আনতে জনগণকে নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বিগত নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে ঐতিহাসিক গণরায়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, জামায়াত এখন জনগণের আশা-ভরসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তাই তারা আগামী দিনে জামায়াতকেই ক্ষমতায় দেখতে চায়। সে লক্ষ্যে তারা জামায়াতের পক্ষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গণরায় প্রদান করলেও ষড়যন্ত্র করে সে গণরায় কেড়ে নেওয়া হয়েছে মর্মে একজন সাবেক উপদেষ্টা ও কোন কোন মন্ত্রীর আত্মস্বীকৃতি মিলেছে। কিন্তু এসব করে জামায়াতের অগ্রযাত্রাকে কোন ভাবেই রোধ করা যাবে না। তিনি দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে সকলকে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান।

তিনি বলেন, জনগণের ভালোবাসা নিয়ে জামায়াত সরাদেশেই অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাই এ অগ্রগতির ধারা আগামী দিনে অব্যাহত রাখার জন্য রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সকল স্তরের জনশক্তিকে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। নিজেদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী ও জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধির জন্য বেশি বেশি কুরআন, হাদিস ও ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন করা জরুরি। মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের সাধ্যমত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। প্রত্যেককে দাঈ ইলাল্লাহ এবং দেশ ও জনগণের খাদেম হিসাবে মানুষের কল্যাণে সব সময় নিয়োজিত রাখতে হবে। এভাবেই আগামীদিনে একটি ন্যায়-ইনসাফ; দর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি দেশকেই কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে ময়দানে আপসহীন থাকার আহবান জানান।

সমাবেশ শেষে মহানগরী আমীর শেরেবাংলানগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও শেরেবাংলানগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন এবং উপস্থিত অভিবাবকদের সাথে মতবিনময় এবং তাদের মাঝে বিশুদ্ধ খাবার পানি বিতরণ করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।