রাজাপুর (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা: ঝালকাঠির রাজাপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। মোট ১৯৪টি পদের মধ্যে ২৬ জন চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণির ৯৪টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাস্তবে সেবার মানে কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করা হলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় তা কার্যকর করা যাচ্ছে না। ফলে সেখানে স্থাপিত কোটি টাকার যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে চিকিৎসক না পেয়ে বাধ্য হয়ে জেলা সদর হাসপাতালে চলে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, জরুরি বিভাগে অনেক সময় চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে পিয়ন ও ওয়ার্ড বয়রা রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন। এমনকি ছোটখাটো সেলাই ও ব্যান্ডেজের কাজও তারাই করছেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন, সার্জারি, চক্ষু, অ্যানেসথেসিয়া, কার্ডিওলজি, চর্ম ও যৌন, ইএনটি)সহ মোট ২৬ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া একজন শিশু বিশেষজ্ঞ প্রেষণে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত এবং একজন মেডিকেল অফিসার মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নার্সিং সুপারভাইজারসহ সিনিয়র স্টাফ নার্সের ৭টি পদ শূন্য রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ যেমন হেলথ এডুকেটর, কম্পিউটার অপারেটর, ক্যাশিয়ার, স্টোর কিপার, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য সহকারীসহ মোট ৪৪টি পদ খালি রয়েছে। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণির অফিস সহায়ক, ওয়ার্ড বয়, আয়া, কুক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী মিলিয়ে ১৭টি পদ শূন্য রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

উপজেল স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো. আবুল খায়ের মাহমুদ বলেন, ডাক্তার স্বল্পতা আগের চেয়ে কমেছে তবে ৪১ জন ডাঃ এর মধ্যে আমরা এগারো জন আছি।অপারেশন থিয়েটারটা কার্যত অচল বললেই চলে কারন গাইনী ডাক্তার আছে তবে এনেস্থিসিয়া ডাঃ এর অভাবে কাক্ষিত সেবা দেওয়া যাচ্ছে না।