ঘরের মাঠে চলমান ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে নেমেই ইতিহাস গড়লো স্বাগতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিকরা। ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে ৪-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দাপুটে এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচের দল।

বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে কখনোই কোনো একক ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে চার-চারটি গোল করতে পারেনি মার্কিনিরা। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এই জয়টি তাই মার্কিন ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড হিসেবে লেখা হয়ে রইল। ঘরের মাঠের চেনা দর্শক আর চেনা কন্ডিশনকে শতভাগ কাজে লাগিয়ে মাঠ মাতিয়েছে মরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা।

এই আর্জেন্টাইন কোচ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মার্কিন দলের খেলার ধরনে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচেও তার কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব ছিল স্পষ্ট। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে স্বাগতিকরা। একের পর এক নিখুঁত আক্রমণে তারা লাতিন আমেরিকার দলটিকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়।

ম্যাচের মাত্র সাড়ে ছয় মিনিটের মাথায় লিড পেয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ প্যারাগুয়ের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডি-বক্সের ভেতর সতীর্থ ম্যাককেনিকে পাস দেন। কিন্তু সেই বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার ড্যামিয়েন বোবাদিলা। এই আত্মঘাতী গোলে ১-০ তে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।

ম্যাচের ২৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোল পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে তাইলার অ্যাডামসের কাছ থেকে পাস পাওয়ার সময় বালোগুন অফসাইডে থাকায় রেফারি গোলটি বাতিল করেন। তবে লিড দ্বিগুণ করতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি স্বাগতিকদের। মাত্র তিন মিনিট পর, ৩১ মিনিটে পুলিসিচের অ্যাসিস্ট থেকে আলতো স্পর্শে বল জালে পাঠান বালোগুন। এর কিছুক্ষণ পরই মালিক তিলম্যানের পাস থেকে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন এই মার্কিন স্ট্রাইকার।

প্রথমার্ধে ৩-০ তে এগিয়ে থাকার পর মনে হচ্ছিল দ্বিতীয় হাফে গোলের বন্যা বইয়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বিরতির পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় প্যারাগুয়ে। রক্ষণভাগ সামলে আক্রমণে মনোযোগ দেয় তারা। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে জুলিও এনসিসোর নিখুঁত পাস থেকে বাঁ প্রান্ত দিয়ে জোরালো শটে প্যারাগুয়ের পক্ষে একমাত্র সান্ত্বনাদায়ক গোলটি করেন মাউরিসিও।

তবে ম্যাচের ভাগ্য ততক্ষণে নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে (যোগ করা সময়) ফ্রিম্যানের কাছ থেকে বল পেয়ে প্যারাগুয়ের ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন জিওভানি রেইনা। প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিল ঝাঁপিয়ে পড়লেও রেইনার চমৎকার শট ফাঁকি দিয়ে জালে প্রবেশ করলে ৪-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের।

মরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে এই যুক্তরাষ্ট্র যে কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে, তার প্রমাণ মিলল প্রথম ম্যাচেই। আক্রমণাত্মক ফুটবল, নিখুঁত পাসিং আর ঘরের মাঠের দর্শকদের জোরালো সমর্থনÑসব মিলিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের আগমনী বার্তা ভালোভাবেই দিয়ে রাখল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই জয়ে ৩ পয়েন্ট টেবিলের সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেল স্বাগতিকরা। যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকে এখন তাকিয়ে থাকবে ফুটবল বিশ্ব।