বন্দর নগরী ও দেশের লাইফ লাইন খ্যাত চট্টগ্রাম শহরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। বর্ষা মৌসুমে এ নগরে মানুষের দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। এ বছরও টানা ভারী বর্ষণে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরের জনজীবন। দৈনিক সংগ্রামসহ পত্রিকান্তরে প্রকাশি খবরে এমন চিত্রই পাওয়া যাচ্ছে। দুর্ভোগের ছবি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে। প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে থাকে, এ পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পানিতে ডুবে বা পাহাড় ধসের কারণে প্রাণহানি ঘটে থাকে। এ চিত্র দেখা যায় প্রতিবছর। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, নগরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। সড়কে হাঁটু থেকে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। জলাবদ্ধতার কারণে আজকে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার এইসএসসি-সমমান পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার দুপুর পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৩৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। শেষ ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় ৫৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সর্বোচ্চ। অতিবৃষ্টিতে নগরীর আগ্রাবাদ, সিডিএ আবাসিক এলাকা, জুবিলী রোড, গোয়ালপাড়া, ষোলশহর, বড় দীঘির পাড়, কাতালগঞ্জ, ঈদগাঁও, বহদ্দারহাট, চকবাজার, হালিশহরসহ অসংখ্য এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। আগ্রাবাদে রিকশা ছাড়া অন্য যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। টানা বৃষ্টিতে ষোলশহর-জানআলীহাট এলাকায় রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায়। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। চট্টগ্রামে পৃথক ঘটনায় পাহাড় ধস ও দেয়াল ধসে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। কিছু এলাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।

এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে নগরের বিভিন্ন এলাকায় নালা-নর্দমা উপচে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতিও কমে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে মাঠে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এবং জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই ফ্লাশফ্লাড রোধে কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরী। আকস্মিক বৃষ্টিতে জমা পানি সরিয়ে দেয়ার ড্রেনেজ সিস্টেম তাই খুবই জরুরী। পানি নেমে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত খাল যেমন দরকার তেমনি সেগুলো যেন ভরাট না হয়ে যায় সেদিকে দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। অতীতে এসব বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে আমরা মনে করি। তাই বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়।

আমরা মনে করি এর অবসান হওয়া উচিত। টানা ভারী বর্ষণে স্থবির হয়ে পড়া চট্টগ্রাম নগর বাঁচাতে ও জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে আমরা সে প্রত্যাশাই করি। আমরা মনে করি চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংস্লিষ্ট অন্যান্য মন্তণালয় ও বিভাগ, চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ সবার সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এর কোন বিকল্প নেই।