॥ পঞ্চম কিস্তি ॥

আমরা বিগত কিস্তিতে সংবাদের সূত্র হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের গোয়েন্দা বিভাগের পাক্ষিক রিপোর্টের কথা উল্লেখ করেছি। এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার আগে দেশের প্রকৃত পরিস্থিতির কিছু ব্যাখ্যা দরকার। একাত্তরের মহাদুর্যোগের দিনগুলোতে ভারতাশ্রিত আওয়ামী লীগের সশস্ত্র নেতাকর্মীদের নৃশংস কর্মকাণ্ড ও তাদের দমনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পৈশাচিক মিলিটারি একশনে সাধারণ মানুষ ক্রসফায়ারের মাঝখানে পড়ে কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে পড়েছিল। আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সদস্যরা প্রাণভয়ে পালিয়ে গিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। এ অবস্থায় আর্মি ও আওয়ামী ক্রিমিনাল উভয়ের হাত থেকে মানুষকে বাঁচানো এবং আশ্বস্ত করার একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন আওয়ামী বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও আলেম ওলামা বিশেষ করে তিন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নিজামে ইসলাম পার্টি, কৃষক শ্রমিক পার্টি, পিডিপি (পাকিস্তান ডেমেক্রেটিক পার্টি), জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম, ইত্তেহাদুল ওলামা পার্টি প্রভৃতি।

১৬ ডিসেম্বর পরবর্তী সময়ে সদ্যজাত বাংলাদেশের যারা শাসন ক্ষমতা দখল করলেন মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস তারা ভারতে ছিলেন। তারা দেশের, দেশবাসীর অবস্থা সম্পর্কে কোন ধারণাই রাখতেন না। ক্ষমতা গ্রহণ করে তারা তাদের এককালের রাজনৈতিক সহযোগী দলগুলোর নেতা-কর্মীদের পাইকারী হারে স্বাধীনতার শত্রু ও পাকিস্তানের দালাল হিসেবে চিহ্নিত করে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেন। প্রায় ৩৮০০০ লোককে পুলিশে সোপর্দ করেন। পাশাপাশি তারা ব্যাপকহারে লুটপাট, বাড়িঘর, জমিজমা ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা জবরদখল করেন।

তাদের অপকর্মগুলো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্থান পায়নি। ষোল ডিসেম্বরের পর আওয়ামী লীগ বহির্ভূত অন্যান্য দলের বিশেস করে আলেম-ওলামা ও পাকিস্তানপন্থীরা তাদের হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, সম্পত্তি দখলের নির্মম শিকার হওয়া ছাড়াও অবাঙ্গালী বিহারীরা, তাদের সম্পদ-সম্পত্তি, জীবন ও নারীদের ইজ্জত আব্রু আওয়ামী গুণ্ডাদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি। তাদের হাতে মৃত ব্যক্তিদের কবরও দিতে দেয়া হয়নি। আমার শহর ফেনীতে ইলিয়াস নামক ইসলামী ছাত্র সংগের এক নেতাকে হত্যা করে পেরেক দিয়ে গাছের সাথে লটকিয়ে রাখা হয়েছিল। ইলিয়াস ফেনী কলেজের ছাত্র ছিল। আমার উপজেলা দাগনভুইঞার ২নং রাজাপুর ইউনিয়নের ক্রোশ মুন্সির হাট সংলঘ্ন আবদুন্নবী গ্রামে ৮জন জামায়াত কর্মীকে জামায়াত করার অপরাধে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে একই গর্তে মাটি চাপা দেয়া হয়েছিল। হত্যার শিকারদের মধ্যে আতাতুর্ক হাইস্কুলের একজন শিক্ষকও ছিলেন। স্বাধীনতার আগে পরে গত প্রায় পঁয়ষট্টি বছরে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের যে চরিত্র আমি দেখেছি তাতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়েছে যে, বৃটিশ শিক্ষামন্ত্রী লর্ড মেকলে বাঙ্গালী চরিত্রের বৈশিষ্ট্য নিয়ে যা বলেছিলেন তা আওয়ামী লীগের বেলায় শতভাগ সত্য। তিনি বলেছিলেন, “মহিষের যথা শৃঙ্গ, মৌমাছির যথা হুল, ব্যাঘ্রের যথা থাবা, নারীর যথা সৌন্দর্য, বাঙ্গালী জাতির তদ্রুপ প্রবঞ্চনা। বড় বড় প্রতিজ্ঞা তথা প্রতিশ্রুতি, মোলায়েম, অজুহাত, অবস্থাগত মিথ্যা প্রমাণাদির বিশদ উপস্থাপনা, ছলচাতুরি, মিথ্যা শাপথ, মিথ্যা সাক্ষ্যদান, জালিয়াতি এগুলো হচ্ছে নিম্ন গাঙ্গেয় উপত্যকার বাসিন্দাদের আত্মরক্ষা এবং আক্রমণের চিরন্তন অস্ত্র”।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের গবেষক ভারতীয় বংশোদ্ভুত মার্কিন সাংবাদিক ও লেখিকা তার বিখ্যাত গবেষণা কর্ম “Dead Reckoning : 1971 Bangladesh War” শীর্ষক পুস্তকে আওয়ামী লীগের প্রবঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি অবাঙ্গালী বিহারীদের হত্যা ও তাদের পরিবারের মেয়েদের ওপর অত্যাচারের এক নিটোল চিত্র তুলে ধরেছেন। আসলে ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগ ও পাকিস্তানী সেনাবাহিনী উভয় পক্ষ থেকেই যে অমানবিক ও নির্মম আচারণের প্রমাণ দেওয়া হয়েছিল তার তুলনা দুনিয়ার ইতিহাসে বিরল। পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে শেখ মুজিব লন্ডন ও দিল্লী হয়ে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনকালে হিথ্রু থেকে বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা ও সংবাদ পাঠক বিশিষ্ট কলামিস্ট সিরাজুর রহমান তার সফর-সঙ্গী ছিলেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা শেখ মুজিব তিন লাখ বলতে গিয়ে ইংরেজীতে তিন মিলিয়ন বলে ফেলেছিলেন। ফলে মুখ ফসকে বলে ফেলা তিন মিলিয়ন বা ত্রিশ লক্ষের অংকটা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি মূলধন হয়ে দাঁড়ায়। বলা বাহুল্য ঐ সময়ে বা এখনো পর্যন্ত কত মানুষ মুক্তিযুদ্ধে নিহত হয়েছেন তার হিসাব কেউ কষেননি। অবশ্য শেখ মুজিব জীবিত থাকাকালে ১৯৭২ সালের ২৯শে জানুয়ারি তৎকালীন ডিআইজি আব্দুর রহীমকে প্রধান করে মুক্তিযুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা নির্ধারণের জন্য ১২ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছিলেন। এ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- ১। জনাব খুরশেদ আলম, গণপরিষদ সদস্য, কুমিল্লা, (২) জনাব মাহমুদ হোসেন খান, গণপরিষদ সদস্য, বগুড়া, (৩) জনাব আবুল হাফিস গণপরিষদ সদস্য, যশোর (৪) জনাব মহিউদ্দিন, ন্যাপ, (৫) জনাব জালাল উদ্দিন মিয়া, প্রাক্তর পুলিশ সুপার, (৬) মোহাম্মদ আলী, উপ-সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়, (৭) টি. হোসেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সিএন্ডবি, (৮) মহিউদ্দিন, পরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, (৯) মোবারক হোসেন, উপ-পরিচালক, স্বাস্থ্য বিভাগ, (১০) উইং কমাণ্ডার কে এম ইসলাম, বিমান বাহিনী, (১১) এম এ হাই, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই কমিটিকে ঐ বছরের ৩০শে এপ্রিলের মধ্যে হতাহতের সংখ্যা উল্লেখ করে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু প্রায় দেড় মাস কঠোর পরিশ্রম করেও কমিটি যখন হতাহতের সংখ্যা ৩০,০০০ এর বেশি পেলেন না এবং থানা পর্যায়ে সার্কেল অফিসারের নেতৃত্বে গঠিত Fact Finding Comittee গুলো তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট দিয়ে COllaborators আইনে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির সুপারিশ করতে থাকলেন তখন সরকার পিছু হটে আবদুর রহীম কমিটির কাজ বন্ধ ঘোষণা করলেন।

বলতে ভুলে গেছি যে, হিথ্রু এয়ারপোর্টে শেখ সাহেব অতি আবেগে যখন সাংবাদিক সম্মেলনে, “থ্রি মিলিয়ন অব মাই পিপল কিলেড এন্ড টু লাখ অব মাই উইমেন্স রেপেড” বলে কেঁদে দিয়েছিলেন তখন তার সাথে সাংবাদিক পিটার হেজেল হার্স্টও কেঁদে ফেলেছিলেন। তিনি যখন হিথ্রু ত্যাগ করলেন তখন হেজেল হার্স্টকে তার দেশের সাংবাদিকরা ঘিরে ধরলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, ‘পাকিস্তান আর্মিরা তার দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, মহিলাদের ধর্ষণ করেছে সে দুঃখে শেখ মুজিব কেদেছেন, কিন্তু তুমি কাঁদলে কেন? পিটারের সহজ উত্তর ছিল, “He has raped my language” চুটকিটি ’৭২ সালের জানুয়ারির ১১ তারিখে Time Magazine পত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের জুন মাসে পাকিস্তান আমলে শেষবারের ন্যায় ডিগ্রী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আমার ইনভিজিলেশন ডিউটি পড়লো জগন্নাথ কলেজে। একটি সুপরিসর কক্ষে আমরা দু’জন কলেজ শিক্ষক কর্মরত ছিলাম; আমি এবং জগন্নাথ কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক জনাব আবদুল মতিন। অধ্যক্ষ ছিলেন যায় যায় দিনের সম্পাদক শফিক রেহমানের পিতা খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ জনাব সাইদুর রহমান।

পবিত্র কুরআনের একজন অনুবাদক। জগন্নাথ কলেজ থেকে অবসরের পর ইনি মতিঝিলের টিএণ্ডটি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হয়েছিলেন। পরীক্ষা হলের ডিউটির কথা বলছিলাম। অধ্যাপক মতিন চেয়ারে বসে এবং আমি হেঁটে হেঁটে ডিউটি করতে অভ্যস্ত ছিলাম। উভয়েই লক্ষ্য করলাম হল ঘরের পেছনের বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বেঞ্চের ওপর বই রেখে নকল করছিল। তৎক্ষণাৎ তার খাতা কেড়ে নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, নকল করছো কেনো? ছেলেটির সোজা উত্তর, স্যার নকল করছি না, আমি আসলটা লিখছিলাম। তার মধ্যে অপরাধ বোধের কোনও চিহ্ন দেখা গেল না। তাকে হল থেকে বহিষ্কার করলাম। অধ্যক্ষ সাহেব এতে পূর্ণ সমর্থন দিলেন। ঐদিনই তওবা করেছিলাম, শিক্ষকতা আর করবো না, যে শিক্ষা সামান্য মূল্যবোধ সৃষ্টি করতে পারে না, ছাত্রছাত্রীদের গরু বানায়, শিক্ষক গরু চরানোর কাজ করে সেই শিক্ষকতা আমার জন্য নয়।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ফ্রন্টিয়ার রেঞ্জার বাহিনী নিয়ে এসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে মোতায়েন করেছে। তারা ছিল দুর্ধর্ষ, শহরের বিভিন্ন রাস্তায় টহল দিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করতো। একবার বুড়িগঙ্গা সংলগ্ন শ্যামবাজার ও উল্টিগঞ্জ রোডে টহলদানকালে এক যুবককে পেয়ে তাকে পাকড়াও করে তার নাম জিজ্ঞাসা করলো, ছেলেটি ছিল হিন্দু; সে বললো তার নাম রাসবিহারী। বিহারী শব্দটা শুনেই তারা আনন্দে লাফিয়ে উঠলো, ভাবলো, উর্দুভাষী বিহারী, বললো ঠিক হায়, তোম বিহারী হো, কাঁহা জানা চাহতে হো, সে বললো গুলিস্তান। তারা তাকে গাড়িতে করে গুলিস্তান নামিয়ে দিল। এরা খুবই বেয়কুফ ধরনের লোক ছিল। মে মাসের দিকে চকবাজারে আগুন লাগলো এবং এতে অনেকগুলো দোকানের সাথে ব্রোঞ্জ-তামা কাঁশার জিনিসপত্রের দোকানও পুড়ে গেল এবং দলা হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পরেই সেখানে রেঞ্জার বাহিনী গিয়ে হাজির। আগুন তখন নিভে গেছে। তারা বুট পরে ধ্বংসস্তূপ দেখতে লাগল এবং নাড়া চাড়ার এক পর্যায়ে পোড়া ব্রোঞ্জ ও তামার দলা দেখে তামাশা দেখার জন্য আসা কিছু লোককে ডেকে জিজ্ঞাসা করলো এগুলো কি, বাংলার সোনা? তাদের মধ্যে ঢাকাইয়া একজন রসিক ছিলেন। তিনি বললেন, জি ইয়ে বাঙ্গাল কা সোনা হায়, বাস্, তারা উপরের দিকে ফায়ার করে লোকজনকে সরিয়ে দিল এবং চকবাজারের গ্রেইন স্টোরগুলো থেকে চটের বস্তা এনে পোড়া ব্রোঞ্জ ভর্তি করে পাটুয়াতুলিতে নিয়ে আসলো। পাঠকদের নিশ্চয়ই জানা আছে যে, পুরান ঢাকায় সদরঘাট সংলগ্ন কোতোয়ালী থানায় পাটুয়াতুলি একটি প্রসিদ্ধ ব্যবসায়িক এলাকা। সম্রাট জাহাঙ্গীরের নির্দেশে ঢাকার মুঘল শাসকরা সদরঘাট নদীবন্দর স্থাপন করেছিলেন এবং কালক্রমে পাটুয়াতুলিতে একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে উঠে। ১৯৭১ সালে এই লেনে ছিল চশমা, অলংকার, বৈদ্যুতিক সামগ্রী, কাপড় চোপড় বিশেষ করে বোরখার পাইকারী মার্কেট। যুদ্ধ শুরু হবার প্রাক্কালে এই দোকানগুলো লুট হয়ে যায় এবং কাঁচের তৈরি শোকেসগুলো খালি পড়ে থাকে। রেঞ্জাররা চকবাজার থেকে বস্তা ভর্তি ‘বাংলা সোনা’ এনে এখানে তোলে এবং পথচারীদের ডেকে ডেকে তাদের কাছে বিক্রি করে। তাদের এই কাজগুলো তখন ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি করেছিল।

এখন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের গোয়েন্দা বিভাগের পাক্ষিক রিপোর্ট নিয়ে আলোচনায় ফিরে আসি। মার্চ মাসের রিপোর্টটি আমার কাছে নেই, তবে এপ্রিল মাস থেকে নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত প্রদত্ত এই রিপোর্টের সংক্ষিপ্ত সার আমি সংরক্ষণ করেছি। এই রিপোর্ট অনুযায়ী এপ্রিল মাসেই নেজামে ইসলাম পার্টির খ্যাতনামা পার্লামেন্টারিয়ান মোলভী ফরিদ আহমেদকে (কক্সবাজার) সভাপতি ও ঐ দলেরই মৌলানা নূরুজ্জামানকে মহাসচিব করে গঠিত শান্তি কমিটির উল্লেখ রয়েছে। কমিটির উদ্যোগে বাইতুল মোকাররম চত্বরে একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই সভায় পাকিস্তানের ঐক্য ও সংহতি এবং জনগণের সামগ্রিক জীবনে শান্তি কামনা করে আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে অধ্যাপক গোলাম আজম বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন। (চলবে)