সরকার উন্নয়ন কার্যক্রম মূলত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এ্যানুয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এডিপি) এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত করে থাকে। প্রতি অর্থবছরের শুরুতে জাতীয় বাজেটের পাশাপাশি এডিপি’তে কী কী প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং সে জন্য কত পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখা হবে তা জাতিকে জানানো হয়। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ এভাবেই তাদের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে থাকে। এডিপি’তে প্রকল্প গ্রহণ এবং তা সঠিক সময়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়নের উপর একটি সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করে। এডিপি’তে রাজনৈতিক বিবেচনাপ্রসূত প্রকল্পের পরিবর্তে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প স্থান দেয়াটাই যৌক্তিক। যদিও আমাদের দেশ প্রত্যাশিত এ রীতি প্রায়শই লঙ্ঘিত হয়ে থাকে। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুন না কেন তারা চেষ্টা করেন রাজনৈতিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রকল্প অধিক মাত্রায় এডিপি’তে স্থান দিতে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, প্রতি বছর এডিপি’র আওতায় বিপুল সংখ্যক প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের হার এবং মান থাকে খুবই নিম্নপর্যায়ে। গৃহীত প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় করা সম্ভব হয়। অবশিষ্ট অর্থ অব্যয়িত থেকে যায়। উল্লেখ্য, প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় এবং প্রকল্পের বাস্তবায়ন এক কথা নয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ার কারণে প্রাক্কলিত ব্যয় বৃদ্ধি পায়। জনগণ প্রকল্প থেকে কাক্সিক্ষত উপকার ভোগ করা থেকে বঞ্চিত হয়। অর্থবছরের প্রথম দিকে বরাদ্দকৃত অর্থের খুব সামান্যই ব্যয় করা সম্ভব হয়। বছরের শেষের দিকে এসে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে বাস্তবায়িত প্রকল্পের গুণগত মান ক্ষুন্ন হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অর্থের অপচয় ঘটে।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর যে সব প্রকল্প গ্রহণ করা হয় তার একটি বিরাট অংশই অবাস্তবায়িত থেকে যায় এবং বরাদ্দকৃত অর্থও ব্যয় করা সম্ভব হয় না। বছরের পর বছর ধরে এ প্রবণতা চলছে। কিন্তু কোন সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থতা এবং বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপারগতার জন্য কাউকেই জবাবদিহি করতে হয় না। প্রতি অর্থবছরের শেষে এসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দকৃত অর্থ কমাতে হয়। যেমন, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ প্রাথমিকভাবে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় সম্বলিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ব্যয় বরাদ্দ ৪৯ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি আকা। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত না হলে চলতি অর্থবছরের জন্য প্রাথমিকভাবে বরাদ্দকৃত অর্থ কমানো হতে পারে।
অতীতে বিভিন্ন জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে প্রধানত কয়েকটি বিশেষ কারণে এডিপি’র আওতায় গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হচ্ছে, গৃহীত প্রকল্পগুলোর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রাপ্তিতে বিলম্ব, প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থ দ্রুত ছাড়করণ না হওয়া, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, প্রকল্পের ডিজাইন অনুমোদনে কালক্ষেপন, প্রকল্প পরিচালক বা প্রোজেক্ট ডিরেক্টর(পিডি) নিয়োগে বিলম্ব এবং উপযুক্ত কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন প্রকল্প পরিচালক না পাওয়া ইত্যাদি। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে(২০২৫-২০২৬) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় গৃহীত ১ হাজার ১৫০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন ছিল। চলতি অর্থবছরে (২০২৬-২০২৭) আরো ১ হাজার ২৭৭টি নতুন প্রকল্প বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তুর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিদ্যমান বাস্তবতায় এসব প্রকল্পের অধিকাংশই বাস্তবায়ন বিলম্বিত হবে এটা মোটামুটি নিশ্চিত করেই বলা যেতে পারে। সৎ, উপযুক্ত এবং পেশাগতভাবে দক্ষ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেয়া প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ে দ্রুত এবং যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) সম্প্রতি সরকারের চলমান ১ হাজার ৩৫২টি উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কার্যক্রমের উপর এক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে। এতে প্রতিষ্ঠানটি দেখতে পায়, প্রায় ৫৫ শতাংশ প্রকল্প,যার সংখ্যা ৭৩৭টি অন্তত একবার তাদের বাস্তবায়নের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। বাস্তবায়নের মেয়াদ দু’বার বৃদ্ধি করা হয়েছে ২৩৪টি প্রকল্পের। তিনবার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে ৪৩টি প্রকল্পের। এছাড়া চারবার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে ৬টি প্রকল্পের এবং ২টি প্রকল্পের বাস্তবায়নের মেয়াদ পাঁচবার বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হলে দুর্নীতি এবং অপচয় বেড়ে যাবার আশঙ্কা থাকে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে গঠিত শ্বেতপত্র কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় করা হয়েছে ৭ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৩ থেকে ৪০ শতাংশ অর্থ নানা প্রক্রিয়ায় অপচয় ও লোপাট করা হয়েছে।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রোজেক্ট ডিরেক্টর পদটি রয়েছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং লোভনীয় একটি পদ। একজন প্রকল্প পরিচালক যদি পরীক্ষিত সৎ এবং স্বচ্ছ হন তাহলে তিনি জাতির সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। অন্যদিকে প্রকল্প পরিচালক যদি দুর্নীতি পরায়ন হন তাহলে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে সর্বোচ্চ মাত্রায় ব্যক্তিগত অনৈতিক সুবিধা লুটে নিতে পারেন। প্রকল্প পরিচালক অনেক বিষয়েই স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ফলে এখানে দুর্নীতি করার অবারিত সুযোগ থাকে। প্রচলিত পদ্ধতিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় প্রকল্প পরিচালকের চাহিদা জানিয়ে থাকে। সেই প্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিয়ে থাকেন। অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এ পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশাদারি দক্ষতা বিচারের খুব একটা সুযোগ থাকে না।
প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ ও উন্নয়ন কাজে জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা না থাকার কারণে ব্যাপক মাত্রায় দুর্নীতি হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে এবং প্রাক্কলিত ব্যয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না। ফলে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যদিও প্রকল্প পরিচালক ও তার নিয়োগদাতাগণ নানাভাবে আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশে প্রতিটি উন্নয়ন কাজে অস্বাভাবিক ব্যয় হয়ে থাকে, যা অন্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। ফোরলেন উন্নত মানের এক কিলোমিটার একটি মহাসড়ক নির্মাণে ভারতে ব্যয় হয় ১৪ লাখ মার্কিন ডলার। একই ধরনের একটি সড়ক নির্মাণে পাকিস্তানে ব্যয় হয় ২৯ দশমিক ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে খরচ হয় যথাক্রমে ২১ দশমিক ৫০ হাজার মার্কিন ডলার ও ১১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। চীন ও তুরস্কে ব্যয় হয় যথাক্রমে ৩৯ লাখ মার্কিন ডলার ও ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। আর বাংলাদেশে একই মান ও আয়তনের একটি সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয় ৬৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণেই বাংলাদেশে উন্নয়ন কাজে ব্যয় বেশি হয়। কারা প্রকল্প পরিচালক হতে পারবেন এবং এ জন্য তাদের কি যোগ্যতা থাকতে হবে এ সংক্রান্ত কোন শর্ত প্রচলিত আইনে নেই। প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হবে কিনা বা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে কিনা তা অনেকটাই প্রকল্প পরিচালকের যোগ্যতা, দক্ষতা এবং সততার উপর নির্ভর করে।
উন্নয়ন কাজের জন্য প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে বিকল্প উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তারা এ সংক্রান্ত একটি নতুন নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছে যেখানে সরকারি চাকরির বাইরে থেকে যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব অথবা বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি জাতীয় পর্যায়ে গঠিত হবে। এ কমিটি আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্য থেকে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেবেন। কমিটির সুপারিশ ব্যতীত কোন মন্ত্রী বা অন্য কারো ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে কোন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেয়া যাবে না। যারা প্রকল্প পরিচালক নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন তারা নির্ধারিত হারে সম্মানি পাবেন। নির্ধারিত সময় এবং প্রাক্কলিত ব্যয়ে যাতে প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয় তাদের সে ব্যাপারে দায়বদ্ধ থাকতে হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারির উন্নয়ন কাজের গতি ত্বরান্বিত হবে এবং প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব জটিলতা বিদ্যমান রয়েছে তা অনেকটাই দূর হবে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন। বিদ্যমান আইনে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্য থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক উপযুক্ত প্রকল্প পরিচালক পাওয়া যায় না। ফলে অনেক সময় একই ব্যক্তিকে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকতে হয়। প্রতি অর্থবছর শেষ হবার দুই অথবা তিন মাস আগেই যদি পরবর্তী বছরের জন্য গৃহীত সম্ভাব্য প্রকল্পের জন্য প্রজেক্ট ডিরেক্টর বাছাই করে রাখা হয় তাহলে তারা নতুন অর্থ বছর শুরু হবার সঙ্গে সঙ্গেই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ আরম্ভ করতে পারবেন। এতে উন্নয়ন কাজের গতি ত্বরান্বিত হবে। প্রকল্প পরিচালকগণ যাতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করেন তা নিশ্চিত করার জন্য শর্তারোপ করা যেতে পারে। অনিবার্য কারণ ছাড়াই যদি নির্ধারিত সময়ে এবং প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে তার দায়ভার প্রকল্প পরিচালকদের বহন করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থতার দায়ভার কোনভাবেই জনহণের উপর চাপানো যাবে না।
সরকার উন্নয়ন প্রকল্পে পরিচালক নিয়োগের ব্যাপারে যে নতুন আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছেন তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যৌক্তিক একটি আইন। কিন্তু কিছু সতর্কতা গ্রহণ করা না হলে এই আইন কাক্সিক্ষত ফল দিতে ব্যর্থ হতে পারে। বাইরে থেকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেয়া যাবে যারা চাকরিরত থাকার কারণে প্রকল্প পরিচালকের পদে আসীন হতেন তারা রুষ্ট হতে পারেন। তারা হয়তো বাইরে থেকে আসা একজন প্রকল্প পরিচালকের প্রতি অসহযোগিতামূলক আচরণ করতে পারেন। এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, বাইরে থেকে যারা প্রকল্প পরিচালক নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন তাদের প্রতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কর্মকর্তাগণ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবেন। এ উদ্যোগ সফল হবার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর ইস্যু হচ্ছে, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে সেটি। দেশে যোগ্যতা সম্পন্ন অনেক পেশাজীবী আছেন যারা ব্যক্তিগতভাবে অথবা বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। চাইলে তাদের দিয়ে সরকারি উন্নয়ন কাজ করিয়ে নেয়া যাবে।
আমাদের দেশে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন তারা দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে পারেন না। সরকার বেসরকারি খাত থেকে উন্নয়ন কাজের জন্য প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের যে উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন তা কতটা রাজনৈতিক বিবেচনা বা প্রভাবমুক্ত হবে তার উপর নির্ভর করবে এর সফলতা। প্রকল্প পরিচালক সার্চ কমিটিতে যাদের স্থান দেয়া হবে তাদের নিয়োগ হতে হবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং তাদের সর্বাবস্থায় নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে। প্রকল্প পরিচালক নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনভাবেই রাজনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় নেয়া যাবে না। যদি রাজনৈতিক বিবেচনায় তুলনামূলক কম যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয় তাহলে ফলাফল কোনভাবেই স্বস্তিদায়ক হবে না। যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন রাষ্ট্রের প্রতি তাদের এক ধরনের দায়বদ্ধতা থাকে। কিন্তু যারা বাইরে থেকে প্রকল্প পরিচালক মনোনীত হবেন তাদের সে ধরনের দায়বদ্ধতা থাকবে না। ভালো অনেক উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়নের অভাবে ব্যর্থ হয়। সরকারি উন্নয়ন কাজে বাইরে থেকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের এ চমৎকার উদ্যোগটিও ব্যর্থ হতে বাধ্য যদি পেশাগত যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক অনুগত্যকে প্রাধান্য দেয়া হয়। তাই এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একই সঙ্গে বাইরে থেকে যারা প্রকল্প পরিচালক হিসেবে মনোনীত হবেন তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লাগসই শর্তারোপ করা যেতে পারে। যদি তার সে শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হন তাহলে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পাদন করেন তার অর্থ আসে জনগণের করের টাকা থেকে। জনগণের অর্থ নিয়ে কোন ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি করার অবকাশ থাকা উচিৎ নয়।