বিশ্ব শিগগিরই ইরানের বিজয়ের প্রতিধ্বনি এবং প্রতিরোধ শক্তির সাফল্য দেখবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহি। সেইসঙ্গে তিনি ইসরাইলকে একটি ‘আগ্রাসী শত্রু’ হিসেবেও উল্লেখ করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে। মেজর জেনারেল গোলামআলি রশিদ এবং আমিন আব্বাস রশিদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাঠানো বার্তায় আবদুল্লাহি এসব কথা বলেন। মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহি বলেন, রশিদ ও তার ছেলের মৃত্যু ইরানের জন্য বেদনাদায়ক ছিল, তবে একই সঙ্গে এটি দেশের প্রতিরোধক্ষমতা ও জাতীয় শক্তিরও প্রমাণ দিয়েছে।

আবদুল্লাহির ভাষ্য, ‘দুর্বল ও লোভী শত্রু ভেবেছিল, ইরানের সামরিক কৌশলবিদদের শারীরিকভাবে হত্যা করে দেশের প্রতিরক্ষা-সংকল্পে ফাটল ধরানো যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি যে শহীদ রশিদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, কৌশলগত চিন্তার একটি সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার রেখে গেছেন আবদোল্লাহি দাবি করেন, রশিদের দেখানো কৌশলগত পথ অনুসরণ করে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখনও শত্রুর তথাকথিত ‘জটিল হাইব্রিড ও জ্ঞানগত যুদ্ধ’ মোকাবিলা করে যাচ্ছে। মিডল ইস্ট আই, এপি, রয়টার্স, প্রেস টিভি, আল-জাজিরা

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে একটি শান্তি চুক্তির রূপরেখায় সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। একই সঙ্গে এই চুক্তির চূড়ান্ত খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে প্রত্যাশা করেছেন তিনি। এতে বলা হয়েছে, দুই-একদিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। শেহবাজ শরিফ বলেছেন, পাকিস্তান এখন দুই-একদিনের মধ্যে সম্ভাব্য একটি ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর (ই-স্বাক্ষর) অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

‘‘আমরা একটি শান্তি চুক্তির ইতিহাসের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি।’’ তিনি বলেছেন, ‘‘আলোচনা চলাকালীন ধারাবাহিক অঙ্গীকার বজায় রাখার জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। সেই সঙ্গে আমাদের পাশে থাকার জন্য এই অঞ্চলের ভাইদের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’’ পাকিস্তানের এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিটি স্থায়ী শান্তির জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে।’’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে না

বহুল আলোচিত মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারকটি আজ রোববারে স্বাক্ষরিত হচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে গতকাল শনিবার এই তথ্য জানা গেছে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তৈরি হওয়া এই সমঝোতা দলিলটি মূলত ‘ইসলামাবাদ স্মারক’ নামে পরিচিত। চুক্তিটির মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে স্পষ্ট করে ইসমাইল বাঘাই জানান, চলমান এই সমঝোতা স্মারকটির মূল লক্ষ্য হল যুদ্ধ অবসান ঘটানো। চলমান এই পরিস্থিতিতে বা বর্তমান পর্যায়ে পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনার টেবিলে কোনো ধরনের আলোচনা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরের সুনির্দিষ্ট সময় জানতে আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে উল্লেখ করে ইরানি মুখপাত্র বলেন, চুক্তিটি আজ হচ্ছে না এটা নিশ্চিত, তবে আগামী দিনগুলোতে এটি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করা যাচ্ছে না। তবে অপর পক্ষের অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সিদ্ধান্তহীনতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি সতর্কবার্তা দেন।

বাঘাই বলেন, প্রতিপক্ষের এই অস্থিতিশীল আচরণের কারণে এই পুরো প্রক্রিয়া বা চুক্তি সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের মন্তব্য বা বিবৃতির ক্ষেত্রে আমাদের অত্যন্ত সতর্ক ও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভাষা কী হবে, তা নিয়ে একমত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

যুদ্ধ অবসানে একটি চুক্তিতে উপনীত হতে একমত হওয়ার পাশাপাশি চুক্তির ভাষা কী হবে তা নিয়েও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। গত শুক্রবার শাহবাজ এ তথ্য জানিয়ে বলেন, চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করতে মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ‘চূড়ান্ত খসড়া চুক্তি এবং সেটির ভাষা কী হবে’—সে বিষয়ে একমত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিচ্ছে পাকিস্তান এবং তাঁরা পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য যুদ্ধরত দুই দেশের সঙ্গে কাজ করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ লিখেছেন, ‘এর আগে কখনো শান্তির এতটা কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হয়নি’। এমন এক সময়ে আলোচনায় এই অগ্রগতির খবর এল, যখন মাত্র গত সপ্তাহেই ইরান এবং প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের মধ্যে তিন দিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা চলেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার হুমকি ঝুঁকি তৈরি করেছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার এক্সে এক পোস্টে বলেন, ‘একটি চুক্তি কখনোই এতটা কাছাকাছি ছিল না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির সেই পোস্টটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, তাঁরা একটি চুক্তির দোরগোড়ায় রয়েছেন।

গত শুক্রবার আরাগচি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, উভয় পক্ষ একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের দিকে এগোচ্ছে। এই চুক্তি ‘সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান ঘোষণা করবে, লেবাননও এর অন্তর্ভুক্ত’।

ইসরাইল মার্চের শুরু থেকে লেবাননে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার অংশ ইসরাইল নয়। ইসরাইলের নেতারা বলেছেন, তারা লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা করছে না। আরাগচি বলেছেন, প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত শর্তাবলি চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আরও বলেছেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো চাইলে এই সময়সীমা বাড়াতেও পারে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে এই মতবিরোধের প্রধান একটি কারণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আশঙ্কা করছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায়Ñএটিকেই তাদের নেতারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে তেহরান জোর দিয়ে বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের ব্রিফ করা একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা শুক্রবার বলেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিটি তেহরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করবে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, দু’পক্ষ চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর ৬০ দিনের এই সময়টি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের কারিগরি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার আলোচনা হবে। ইউরেনিয়াম অপসারণের দায়িত্ব কে নেবে বা যুক্তরাষ্ট্র কাকে বিবেচনা করছে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছেÑ এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুট হরমুজ প্রণালি। এই প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে এবং এর ফলে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলা আছে। এ বিষয়ে আরাগচি বলেছেন, ইরান এমন একটি চুক্তি চায়, যা তেহরানকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় জাহাজগুলোর কাছ থেকে ‘সেবার বিনিময়ে ফি’ আদায়ের অনুমতি দেবে। যুদ্ধ চলাকালে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য একটি টোলব্যবস্থা চালু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশগুলোর অভিযোগ, এর মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে।

আরাগচি বলেন, ‘সেখানে খরচ হবে এবং সেই খরচ অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের কয়েকটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।

এ ছাড়া তিনজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইরানের ওপর থেকে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগের দিন বৃহস্পতিবার ট্রাম্প আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি কথা বলেন, যদিও এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি আরও তীব্র হামলা চালানোর এবং ইরানের তেল শিল্প দখলের হুমকি দিয়েছিলেন। ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরাইল এই আলোচিত চুক্তির কোনো পক্ষ নয়।

আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানান, এই চুক্তিতে মূল মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং এতে সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর ও কাতারের সমর্থন রয়েছে।

ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড়ছে আমিরাত

ইরানের জব্দ হয়ে থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড় দেওয়ার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছে একাধিক আঞ্চলিক সূত্র। তবে এ ধরনের কোনো অর্থ ছাড় বা স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি নাকচ করেছে আমিরাত সরকার। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের সময় কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানি হামলার মুখোমুখি হওয়ার পর আমিরাত তাদের কৌশলগত অবস্থানে পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী সমঝোতা নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবেই বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের তেল বিক্রির রাজস্ব ছাড়ের বিষয়টি সামনে এসেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব অর্থ দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ রয়েছে। দুটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, আমিরাত প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে এবং এর মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ইতোমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে আরও দুটি সূত্র দাবি করেছে, মোট অর্থের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলার এবং আমিরাতে ইরানি হামলা বন্ধ রাখার শর্তেই এ সমঝোতা হয়েছে।

একটি সূত্রের দাবি, প্রথম কিস্তি হিসেবে ৩ বিলিয়ন ডলার ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে। তবে এই অর্থ আমিরাতের নিজস্ব তহবিল, নাকি দেশটির ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আটকে থাকা ইরানি সম্পদের অংশ—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্যদিকে শনিবার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব দাবি সরাসরি অস্বীকার করে। বিবৃতিতে বলা হয়, জব্দকৃত ইরানি অর্থ ছাড়, স্থানান্তর বা এ ধরনের কোনো সহায়তার খবর ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এক আমিরাতি কর্মকর্তা বলেন, অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা প্রশমন, স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠাই তাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পক্ষের শান্তি উদ্যোগকে সমর্থন করছে আমিরাত। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। হোয়াইট হাউজ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না করলেও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার বলেন, কোনো চুক্তি বা বৈঠকের বিনিময়ে ইরানকে অর্থ দেওয়া হবে না। তবে ভবিষ্যৎ কোনো সমঝোতার আওতায় ইরান তার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করলে অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। রয়টার্সের অনুরোধ সত্ত্বেও ইরানের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

বিশ্লেষকদের মতে, এমন কোনো সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে তা আমিরাত-ইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে। যুদ্ধ চলাকালে ইরানি হামলার কারণে দুবাইয়ের পর্যটন ও ব্যবসা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক প্রবাসী দেশ ছাড়েন এবং নিরাপদ ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে আমিরাতের ভাবমূর্তিও চাপে পড়ে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই ব্যবস্থা এমন একটি সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে, যেখানে ইরান যুদ্ধজনিত ক্ষতিপূরণের দাবি করতে পারবে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অর্থ প্রদানের অভিযোগ এড়াতে পারবে এবং আমিরাতও নিজের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাবে।

আরেকটি সূত্রের দাবি, অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে আমিরাতের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধ রাখবে ইরান। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গোপন আলোচনা ও দুবাইয়ের আর্থিক ভূমিকা

সমঝোতা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানায়, কয়েক সপ্তাহ আগে আলোচনা শুরু হলেও সম্প্রতি ইরানের প্রভাবশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কর্মকর্তারা আবুধাবি সফর করে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করার পর আলোচনা দ্রুত অগ্রসর হয়। পরে আমিরাতের কর্মকর্তারাও কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য তেহরান সফর করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দুবাইয়ের ব্যাংকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ ইরানি অর্থ জমা রয়েছে, যার বড় অংশ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে সম্ভাব্য কোনো সমঝোতায় এসব তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিলে ইরানের একটি সূত্র দাবি করেছিল, কাতারসহ বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে। তবে সে সময় একজন মার্কিন কর্মকর্তা ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।