* সরকার যাদের বিল বাড়ায়নি তাদের বিদ্যুৎ বিল এসেছে ২ থেকে ৫ গুণ বেশি

* বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, দোহারে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও

কামাল উদ্দিন সুমন:

ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারি থানার দাদপুর বঙ্গেশ^রদী সুগান্ধি এলাকার তায়েব আলী মোল্লা। ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন নিয়মিত গ্রাহক। প্রতিমাসে তার বাসার বিদ্যুৎ বিল আসে ৫শ’ টাকার কম। মে মাসে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছিল ৪৪১ টাকা। কিন্তু হঠাৎ করে জুন মাসে তায়েব আলী মোল্লার বিদ্যুৎ বিল আসে এক লাফে ১৮৫৬ টাকা। আগের মতোই বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর কেন প্রায় সাড়ে ৩ গুণ বেশি বিল আসায় অনেকটা আতংকগ্রস্ত তায়েব আলী মোল্লা।

গতকাল রোববার তায়েব আলী মোল্লার পুত্র ফিরোজ মোল্লা দৈনিক সংগ্রামকে জানান, হঠাৎ এতো টাকা বিদ্যুৎ বিল আসায় আমরা এক রকম দিশেহারা। আগের মতোই বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরও কেন বাড়তি এত টাকা বিল আসলো তা আমাদের আতংকিত করেছে। সামনের দিকে কি হয় কে জানে। আমারা স্বল্প আয়ের মানুষ । আমাদের প্রতি এমন অবিচার কেন প্রশ্ন রাখেন তিনি।

শুধু তায়েব আলী মোল্লাই নন তার মতো পল্লী বিদ্যুতের লাখ লাখ গ্রাহকের জুন মাসের বিল আগের চাইতে কয়েকগুন বেশি এসেছে। ভুতুড়ে বিল নিয়ে গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকের মধ্যে উদ্বেগের পাশাপাশি ফুসে উঠেছে অনেকে। বিদ্যুতের বেশি বিল আসায় দোহারের মানববন্ধন করে বিদ্যুত অফিস ঘেরাও দিয়েছে গ্রাহকরা। পল্লী বিদ্যুতের এমন অস্বাভাবিক বিল নিয়ে আতঙ্ক কাজ করছে তাদের মধ্যে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের জুন মাসের বিল কয়েকগুন বেশি এসেছে। ‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল এসেছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার অধিকাংশ গ্রাহকের।

আদনান শরীফ নামের এক বাসিন্দা জানান, গত মাসে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছিল যেখানে এক হাজার ৫০০ টাকা, এ মাসে সেখানে এসেছে সাত হাজার ১৯০ টাকা।

মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক গ্রাহকের গত মাসে যেখানে এসেছিল ৫০০ টাকা, এ মাসে সেখানে এসেছে এক হাজার ৫০০। আওলাদ হোসেনের গত মাসে এসেছিল ৪৫০ টাকা, এ মাসে এসেছে এক হাজার ৮০০ টাকা। গত মাসে গ্রাহক আলাউদ্দিনের বিদ্যুৎ বিল এসেছিল ৬৭৭ টাকা। চলতি মাসে এসেছে দুই হাজার ৩৭৭ টাকা।

একইভাবে বেলাল হোসেনের ৩০০ টাকার জায়গায় এ মাসে এসেছে এক হাজার ৭০০ টাকা। গ্রাহকদের অভিযোগ, হঠাৎ করেই দ্বিগুণ-তিনগুণ এমনকি কারো কারো পাঁচগুণেরও বেশি বিল এসেছে চলতি মাসে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। গ্রাহকরা বিলের কপি ফেসবুকে প্রকাশ করে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত ও সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, যেসব পরিবারে বিদ্যুৎ ব্যবহার একই রকম রয়েছে, তাদেরও আগের মাসের তুলনায় অনেক বেশি বিল এসেছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ জানাতে গেলে যথাযথ সেবা না পেয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাদের।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কমলনগরের বিভিন্ন গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডিতে এ নিয়ে অসংখ্য পোস্ট দেখা গেছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, নিয়মিত লোডশেডিংয়ের মধ্যেও কিভাবে এত বেশি বিদ্যুৎ বিল আসছে- তা নিয়ে। কেউ কেউ মিটার রিডিংয়ের অসংগতি ও গড় বিল করার অভিযোগও তুলেছেন।

কমলনগর উপজেলা পল্লী বিদুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের অধীনে প্রায় ৬১ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। চলতি মাসে অধিকাংশ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলে দুই তিনগুণ টাকা আসায় গত তিন দিন ধরে চলছে প্রতিবাদ।

কমলনগর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো কোনো ক্ষেত্রে মিটার রিডিংয়ের ভুল বা সমন্বয়ের কারণে বিল বেশি আসতে পারে। অভিযোগ পেলে যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। এ নিয়ে এত হৈচৈ করার কোনো মানে হয় না ‘গ্রাহকদের বিলের সঙ্গে মিটার রিডিং মিলিয়ে দেখারও পরামর্শ দেন এ কর্মকর্তা।

জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, সদর ও রামগঞ্জ উপজেলার শত শত গ্রাহক হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের কবলে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ব্যবহার অপরিবর্তিত থাকলেও অনেকের বিল এসেছে আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। এমনকি বন্ধ মিটারের বিপরীতেও হাজার হাজার টাকার বিল পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মে মাসে অধিকাংশ গ্রাহকের বিল এপ্রিল মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এসেছে। রায়পুর শহরের নতুনবাজার এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন জানান, এপ্রিল মাসে তাঁর বিদ্যুৎ বিল ছিল ৪ হাজার ৩৩৯ টাকা। কিন্তু মে মাসে একই সংযোগে বিল এসেছে ৯ হাজার ৭৩৩ টাকা। বিল বৃদ্ধির কারণ জানতে একাধিকবার বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো সদুত্তর পাননি তিনি। একই অভিযোগ করেছেন রায়পুরের টিএনটি সড়কের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন।

তিনি জানান, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ প্রায় একই থাকা সত্ত্বেও এপ্রিলে যেখানে বিল এসেছিল ১ হাজার ৬৯০ টাকা, মে মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৯২ টাকায়। জসিম উদ্দিন বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে এমনিতেই দিশেহারা মানুষ, তার ওপর বিদ্যুৎ বিলের এমন অনিয়ম নতুন করে দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে দিনমজুর মাসুদ আলমের সঙ্গে। সেচের কাজে ব্যবহৃত তার বিদ্যুৎ মিটারটি গত দুই মাস ধরে বন্ধ। অথচ বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে তাকে ৬ হাজার ৪২১ টাকার বিল পরিশোধের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মাসুদ আলম বলেন, মিটার বন্ধ, কিন্তু বিল আসছে। অফিসে গিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।

ব্যবসায়ী নজির আহাম্মদের অভিযোগ, তার বিল ৯০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ২৫০ টাকায় ঠেকেছে। তিনি জানান, অফিসে গেলে কর্মকর্তারা আগে বিল পরিশোধের পরামর্শ দেন এবং পরে তা সমন্বয়ের আশ্বাস দেন। কিন্তু সাধারণ গ্রাহকদের পক্ষে আগে অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতি ও ভুল বিল তৈরির দায় গ্রাহকদের ওপর চাপানো হচ্ছে। বিল সংশোধনের নামে বিদ্যুৎ অফিসে বারবার ধর্ণা দেওয়াটা সাধারণ মানুষের জন্য চরম হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভুল বিল বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন।

বাগেরহাটের শরণখোলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে গ্রাহকের মিটার না দেখেই মনগড়া ও ‘ভূতুড়ে’ বিল ধরিয়ে দেওয়ার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। কোনো ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তৈরি করা এসব অস্বাভাবিক বিলের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার হাজারো সাধারণ মানুষ। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আগে যে পরিবারের মাসিক বিল আসতো ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বর্তমানে সেখানে তাদের গুনতে হচ্ছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা।

রোববার সকালে শরণখোলা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে শতাধিক ভুক্তভোগী নারী-পুরুষকে একই অভিযোগ করেছে। অতিরিক্ত বিলের বোঝা আর হয়রানির কারণে তাদের চোখে-মুখে ছিল ক্ষোভ ও অসহায়ত্বের ছাপ।

ভুক্তভোগীদের দাবি, মাঠপর্যায়ের মিটার রিডাররা নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে রিডিং সংগ্রহ করেন না। তারা অফিসে বসেই ইচ্ছেমতো ইউনিট বসিয়ে দিচ্ছেন, যার ফলে বিলের অঙ্ক স্বাভাবিকের চেয়ে তিন-চার গুণ বেড়ে গেছে।

অফিসে অভিযোগ নিয়ে আসা রায়েন্দা বাজারের গ্রাহক আফরোজা সুলতানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগে আমার সর্বোচ্চ ৩৫ থেকে ৫০ ইউনিটের বিল আসতো। অথচ এবার মিটার না দেখেই মনগড়াভাবে ২০০ ইউনিটের ১ হাজার ৬৭৩ টাকার বিল পাঠানো হয়েছে। মিটার রিডাররা এলাকায় না এসেই আন্দাজে বিল লিখে দেন। আজ বাধ্য হয়ে অফিসে এসেছি অভিযোগ করতে।

একইভাবে রাজৈর গ্রামের কবির মল্লিকের আগের ১৮০-২০০ টাকার বিলের জায়গায় জুন মাসে এসেছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। উত্তর তাফালবাড়ির হামিদা বেগমের ৮০০ টাকার বিল আসার পর অভিযোগ করলে তা সংশোধন করে ২০০ টাকা করা হয়।

এছাড়া গোলবুনিয়া গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন গাজীর নিয়মিত ৬৫০-৭০০ টাকার বিলের জায়গায় ১ হাজার ৪৯০ টাকা এবং পূর্ব আমড়াগাছিয়া গ্রামের মো. বাদল হাওলাদারের ৫০০ টাকার স্থলে ১ হাজার ৯৪ টাকার বিল তৈরি করা হয়েছে।

শরণখোলা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সহকারী জেনারেল ম্যানেজার) বলেন,আমি এখানে সদ্য যোগদান করেছি। কোনো গ্রাহকের বিলে অসঙ্গতি থেকে থাকলে, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা যাচাই-বাছাই করে দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিরোজপুরের কাউখালীতে পল্লী বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় অতিরিক্ত বিল নির্ধারণ এবং বিলের কাগজ যথাসময়ে গ্রাহকদের হাতে না পৌঁছানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ সরাসরি গ্রাহকের হাতে না দিয়ে পাশের দোকান বা প্রতিবেশীর বাড়িতে রেখে যাওয়া হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ে বিলের কাগজ না পাওয়ায় বিল পরিশোধে দেরি হয় এবং অতিরিক্ত সুদ গুনতে হয়।

উপজেলার কচুয়াকাঠি গ্রামের বাসিন্দা ফরিদা বেগম বলেন, আমাদের সাধারণত মাসে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকার মধ্যে বিল আসে। কিন্তু জুন মাসে বিল এসেছে ২ হাজার ১৫০ টাকা। এত বেশি বিল কেন এসেছে বুঝতে পারছি না।

কাউখালী সদর এলাকার বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ বলেন, অনেক সময় মাস শেষ হওয়ার পর বিল হাতে পাই। এতে সময়মতো বিল পরিশোধ করতে সমস্যা হয়। অনেক ক্ষেত্রে মিটার না দেখেই অতিরিক্ত বিল করা হচ্ছে বলে মনে হয়।

কাউখালী পল্লী বিদ্যুৎ ইনচার্জ কামাল হোসেন বলেন, গ্রাহকদের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কোনো গ্রাহকের বিল নিয়ে আপত্তি থাকলে তিনি অফিসে এসে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মিটার পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি কোনো ক্ষেত্রে ভুল বিল হয়ে থাকে, তাহলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মিটার রিডিং সংগ্রহ ও বিল বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকার দোহার উপজেলায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয় সাধারণ জনগণ। রবিবার দুপুরে উপজেলার দোহার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জনতা পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, তাদের অনেকের বাড়িতে এসি বা ফ্রিজের মতো উচ্চ বিদ্যুৎ খরচকারী কোনো যন্ত্র নেই, তবুও অস্বাভাবিকভাবে বাড়তি বিল আসছে। তারা এই ধরনের ‘ভূতুড়ে বিল’ এবং গ্রাহক হয়রানির তীব্র প্রতিবাদ জানান।

প্রতিবাদকারীরা দ্রুত অতিরিক্ত বিল সংশোধন এবং এ ধরনের অনিয়ম বন্ধের দাবি জানান। এসময় তারা স্লোগান দিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে ডিজিএমের পদত্যাগ দাবি করেন এবং বিদ্যুৎ বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দোহার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানায়। এ সময় দোহার থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক অতিরিক্ত বিল সংশোধনের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি শেষ করে স্থান ত্যাগ করেন। তবে তারা আলটিমেটাম দেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে তারা আরো কঠোর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবেন।

জানা গেছে, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)-এর আওতায় সারাদেশে বর্তমানে গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৭৯ লাখ (৩.৭৯ কোটি)। ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে সারা দেশের প্রায় ৭৭ শতাংশ বিদ্যুৎ গ্রাহককে আরইবি বিদ্যুৎ সেবা প্রদান করে থাকে। পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক ও বিদ্যুৎ সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:মোট গ্রাহক: প্রায় ৩ কোটি ৭৯ লাখ বিদ্যুতায়িত উপজেলা: ৪৬২টিবিদ্যুতায়িত গ্রাম: ৮৫,৪৫৪ টি বিতরণ লাইন প্রায় ৫ লাখ ৪৯ হাজার কিলোমিটার। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম গতকাল রোববার দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, গ্রাহকের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ আসলে অবশ্য এর যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুত ব্যবহার না করে যদি ভুতড়ে বিল আসে কার এর সাথে জড়িত তা দেখতে হবে। মানুষ সেবা পাচ্ছে কিনা তা দেখতে হবে।

যা বলেছে বিদ্যুৎ বিভাগ

এ ব্যাপারে গতকাল সোমবার বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা (উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে-বিদ্যুতের গ্রাহক পর্যায়ে সাম্প্রতিক সময়ে অন্যান্য মাসের তুলনায় জুন ২০২৬ মাসে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পরিলক্ষিত হচ্ছে মর্মে অভিযোগ বিভিন্ন সূত্র হতে জানা যায়। গ্রাহক হয়রানি লাঘবের নিমিত্ত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা/কোম্পানিসমূহকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় সম্মানিত গ্রাহকবৃন্দকে অতিরিক্ত বিল সংক্রান্ত বিষয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা/কোম্পানিসমূহের সাথে সরাসরি অথবা ইতিপূর্বে প্রদত্ত হটলাইনসমূহে যোগাযোগ করার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ হতে অনুরোধ করা হয়েছে।