দফায় দফায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরী শাখা। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে নগরীর মিশন পাড়া এলাকায় কেন্দ্র ঘোষিত এ কর্মসূচি পালিত হয়।

​বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার। তিনি বলেন, “জনগণের ওপর একের পর এক জনবিরোধী সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাওয়া সাধারণ মানুষের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আমরা আন্তর্জাতিক বাজারের দর সম্পর্কে অবগত আছি। এই মূল্যবৃদ্ধি জনগণ মেনে নেবে না, আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং খেটে খাওয়া সাধারণ জনগনকে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলব।”

​নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন গতি রোধ করতে না পারলে জনগণ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। আপনারা যে কার্ডই দেন না কেন, মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার ও বেঁচে থাকার তাগিদেই মাঠে থাকবে। অনতিবিলম্বে জ্বালানী তেল ও বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

​ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, “ইসলামী ব্যাংক একটি সুদবিহীন ব্যাংক। যারা এই ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে, প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিদের পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ এই ব্যাংকের কার্যক্রমে জামায়াতে ইসলামীর নাম জড়াতে চায়, জামায়াতের লোক যদি এই ব্যংকে আমানত রাখে, শেয়ার হোল্ডার থাকে তাহলে তারা তাদের আমানত রক্ষায় সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে ইসলামী ব্যাংককে রক্ষার জন্য দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাব।”

​উক্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ জামাল হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি এইচ এম নাসির উদ্দিন এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি হাফেজ আব্দুল মোমিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

​উল্লেখ্য, গত ১ জুন জ্বালানি তেলের দাম এবং ৩ জুন বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে জনগণের সাথে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল বলে অভিহিত করেন বক্তারা।

​সমাবেশে বক্তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারের এসব হঠকারী সিদ্ধান্ত জাতি আর মেনে নেবে না। অবিলম্বে জনস্বার্থবিরোধী এসব সিদ্ধান্ত বাতিল না করলে কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে।