জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কর্তৃক বোরকা-হিজাব এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা ঢাকা মহানগরী উত্তর। আজ (১৫ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধের ওপর আঘাত হানছে।
ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভানেত্রী সাওদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে এবং বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের দায়িত্বশীলা মারজিয়া সিদ্দিকার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল তামিমা আফরোজ। এতে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী পশ্চিমের সেক্রেটারি মাহবুবা আক্তার, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি খাদিজা আক্তার, শিক্ষা বিভাগের সদস্যা ইকরা কবির বিন নুর এবং মহানগরী সদস্যা নুসাইবা ফারিয়াহ খান প্রমুখ।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তামিমা আফরোজ বলেন, "একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধের ওপর প্রতিনিয়ত আঘাত করছে। বিশেষ করে পর্দানশীন নারীরা আজ পোশাকের কারণে সমাজ, পরীক্ষার হল এবং কর্মক্ষেত্রে হেনস্থা ও কটূক্তির শিকার হচ্ছেন।" ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চা করা ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হওয়া সত্ত্বেও নারীদের এই আক্রোশের শিকার হতে হচ্ছে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধর্মীয় পোশাক নিয়ে কটূক্তির বিষয়টি এখন জাতীয় সংসদের মতো পবিত্র অঙ্গনে গিয়ে ঠেকেছে। জাতীয় সংসদে বোরকা-হিজাব পরিহিত নারী সাংসদদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং তাতে অন্যান্য সদস্যদের সমর্থনসূচক প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ন্যক্কারজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত।
মানবন্ধনে কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভানেত্রী সাওদা ইয়াসমিন নিম্নলিখিত দাবি ও প্রস্তাব পেশ করেন-
১. ধর্মীয় সাংবিধানিক অধিকারকে অবমাননা করে বোরখা-হিজাব-নিকাব নিয়ে কটুক্তি করা এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
২. দেশের সর্বক্ষেত্রে পর্দানশীন, নিকাব পরিহিত নারীদের নারী পর্যবেক্ষক/শিক্ষক দ্বারা চিহ্নিতকরণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৩. ব্যক্তি স্বাধীনতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে কটুক্তি বা হেনস্তার বিরুদ্ধে সংবিধান স্বীকৃত অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
৪. প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নিজস্ব দলীয় পরিমণ্ডলে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চা চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৫. প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সকল পর্যায়ে পর্যাপ্ত ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে যেন প্রত্যেকে ধর্মের প্রতি মূল্যবোধ চর্চার মানসিকতা নিয়ে বেড়ে ওঠে।