জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নারী সংসদ সদস্যদের হিজাব, নিকাব ও পর্দা নিয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর কুরুচিপূর্ণ, অবমাননাকর ও বিদ্রূপাত্মক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

আজ রোববার (১৪ জুন) ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান এবং সেক্রেটারি কাজী আশিক এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।

ঢাবি শিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মো: মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, জাতীয় সংসদ মতপ্রকাশ, গণতান্ত্রিক বিতর্ক ও জনগণের প্রতিনিধিত্বের সর্বোচ্চ মঞ্চ। সেখানে দাঁড়িয়ে কোনো নারীর হিজাব, নিকাব বা বোরকা নিয়ে বিদ্রূপ করা শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত নয়; বরং এটি দেশের কোটি কোটি পর্দানশীন নারী, মুসলিম সমাজ এবং নারীর মৌলিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শনের শামিল।

নেতৃবৃন্দ বলেন, একজন নারী কী পোশাক পরবেন, কীভাবে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় ও মূল্যবোধ ধারণ করবেন—এ সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত ও সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকারকে উপহাস করা কিংবা সন্দেহের চোখে দেখা কোনো গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজের প্রতিনিধির আচরণ হতে পারে না।

নারীদের নিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও বিএনপির সাংসদ মনিরুলের এই ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য মূলত রংপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতার মনোরঞ্জনের জন্য ১৫-১৭ বছরের নাবালিকা মেয়ে খোঁজা কিংবা সারাদেশে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের অব্যাহত ধর্ষণ ও যৌনাপরাধের যে নজিরবিহীন সংস্কৃতি, তারই এক নিষ্ঠুর ও নির্লজ্জ স্বীকারোক্তি ।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বাংলাদেশের অসংখ্য শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, গবেষক ও পেশাজীবী নারী হিজাব, নিকাব ও বোরকা পরিধান করেই শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। অথচ সংসদের মতো জায়গা থেকে এ ধরনের মন্তব্য ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চাকরির সাক্ষাৎকার, পরীক্ষা ও বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে পর্দানশীন নারীদের প্রতি বিদ্বেষ, কটূক্তি ও হয়রানির পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

তারা বলেন, মতাদর্শগত বা রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকতেই পারে, কিন্তু কোনো নারীর ধর্মীয় পরিচয়, পোশাক বা পর্দাকে বিদ্রূপের বিষয় বানানো কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অবিলম্বে উক্ত মন্তব্যের জন্য সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর প্রকাশ্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানাচ্ছে। একইসঙ্গে আমরা সকল রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি ও রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিবর্গের প্রতি আহ্বান নারীর ধর্মীয় স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।