বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেছেন, “জামায়াতে ইসলামী ঢাকার সবকটি আসনে বিজয়ী হলেও মেটিকুলাস ডিজাইনে বিজয় কেড়ে নেওয়া হয়েছে”। তিনি বলেন, হাজারো প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে জামায়াতে ইসলামী জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথে ছিল বলেই জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় বসাতে ভোট দিয়েছিল কিন্তু সেই ভোট জালিয়াতি করে জামায়াতে ইসলামীকে মেইনস্ট্রিম হতে দেয়া হয়নি। যার স্বীকারোক্তি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দিয়েছিলেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতরে বাহিরে থেকে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

শুক্রবার (১০ জুলাই) কোতোয়লী দক্ষিণ থানা ইউনিট দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আর বলেন, সমাজের মানুষের কাছে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মানবিক নেতৃত্বের ভান্ডার হিসেবে যেই পরিচিতি রয়েছে, সেই পরিচিতি ধরে রাখতে হবে।

উপস্থিত দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে নিজের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। চেষ্টা ব্যতীত আল্লাহর সাহায্য আশা করা যায় না। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত ইকামতে দ্বীনের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। দায়িত্ব আমাদের কাছে আমানত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে না পারলে আমানতের খেয়ানত হবে। তাই দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। মৌলিক মানবীয় গুণাবলী বিকাশ সাধন করে জনগণের খেদমতে নিজেদেরকে তৈরি করতে হবে। তবেই সমাজে পরিবর্তন সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, আমীরে জামায়াতের বক্তব্যের প্রতিচ্ছবি হতে হবে কর্মীদের কার্যক্রম। মানুষ আমীরে জামায়াতকে সার্বক্ষণিক দেখে না, কর্মীদের সার্বক্ষণিক দেখে। তাই কর্মীদের আচরণ ও কার্যক্রম হতে হবে সংগঠনের নীতি ও আদর্শের আলোকে আমীরে জামায়াতে বক্তব্যের প্রতিচ্ছবি হিসেবে। মানুষ যাতে একজন কর্মীর মাঝে জামায়াতে ইসলামীকে খুঁজে পায় সেভাবেই কাজ করতে তিনি উপস্থিত দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতীতের ধারা অব্যাহত রেখে আগামীতেও মানুষের জন্য মানবিক ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির বলেন, এদেশে যত ইসলামী আন্দোলনের কথা বলা হয় তার মধ্যে একমাত্র সংগঠন জামায়াতে ইসলামী যারা দ্বীন কায়েমের জন্য জান ও মাল কুরবানি করতে বরাবরই সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে আসছে। জামায়াতে ইসলামী একমাত্র সংগঠন যারা দ্বীন কায়েমের আন্দোলনে কাঁদা ছোড়াছুড়ি করেনি, করবে না। ইসলামী আন্দোলনের সংগঠন দাবি করা অন্যরা দ্বীন কায়েমের আন্দোলনের পরিবর্তে শুধুমাত্র জামায়াতে ইসলামীর বিরোধিতা করেই যাচ্ছে। তাদের কেউ কেউ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীকে জবাই করে দেওয়ার কথাও বলে। যেই ভাষায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ কথা বলতো একই ভাষায় তারাও কথা বলছে। তাদের ভাষা দেখেই জনগণ বুঝে গেছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আর এদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তাই তারা নিজেদেরকে যতই ইসলামী আন্দোলনের সংগঠন দাবি করে জনগণ সেটি বিশ্বাস করে না। এমনকি তাদের কার্যক্রমের কারণে তাদেরই অনেক নেতাকর্মী বিব্রত ও বিরক্ত হয়ে সত্য এবং ন্যায়ের সন্ধানে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করতে শুরু করেছে, আলহামদুলিল্লাহ। জামায়াতে ইসলামী সত্য এবং ন্যায়ের ওপর অবিচল থেকেই দ্বীন কায়েমের আন্দোলন চালিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে এদেশের জনগণ একটি মানবিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র উপহার পাবে।

মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও কোতোয়ালী দক্ষিণ থানা আমীর মো. মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি মো. ইকবাল হোসেনের পরিচালনায় মহানগরী কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হাসান। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা আব্দুল জব্বার, মাওলানা আ ফ ম আইউব, মো. আশ্রাফুজ্জামান সুজন প্রমুখ।

এদিকে শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের লালবাগ দক্ষিণ থানা অগ্রসরকর্মী শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত শিক্ষা বৈঠকে ৮০ জন অগ্রসরকর্মী অংশগ্রহন করেন। অগ্রসরকর্মীদের উদ্দেশ্যে সাংগঠনিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও লালবাগ দক্ষিণ থানা আমীর মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও লালবাগ-কামরাঙ্গীরচর জোন পরিচালক আব্দুর রহমান, সহকারী জোন পরিচালক ও লালবাগ পূর্ব থানা আমীর ড. শামীমুল বারি। এছাড়াও অনুষ্ঠানে লালবাগ দক্ষিণ থানার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পল্টন থানা অগ্রসরকর্মী শিক্ষা বৈঠকে উপস্থিত অগ্রসরকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। পল্টন থানা আমীর এডভোকেট মারুফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা বৈঠকে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পল্টন থানা সহকারী সেক্রেটারি মুস্তাফিজুর রহমান শাহীন ও এনামুল হক। এছাড়াও থানার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।