দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করা হতে পারে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর এই উদ্যোগের মধ্যেই দেশের কয়েক কোটি বেসরকারি চাকরিজীবীর বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলেও শুরু থেকেই সব ধরনের আর্থিক সুবিধা একযোগে দেওয়া হবে না। আলোচনাধীন প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সংশোধিত মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর করা হবে। পরবর্তী ধাপগুলোতে অবশিষ্ট বেতন বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ভাতা সমন্বয়ের বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হতে পারে। ফলে জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলেও পূর্ণ আর্থিক সুবিধা পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

সূত্র আরও জানায়, আগামী ১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল কার্যকরের নীতিগত সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামোর রূপরেখা, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রশাসনে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনসেবার মানোন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বর্তমানে কার্যকর অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের নিয়মিত ও বিশেষ ভাতা পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে বাড়িভাড়া ভাতা, যা অঞ্চলভেদে মূল বেতনের ৪৫ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত; চিকিৎসা ভাতা, যা বর্তমানে সব পদের জন্য মাসিক এক হাজার ৫০০ টাকা; নির্দিষ্ট গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য যাতায়াত ভাতা এবং প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি সুবিধা; দুই সন্তানের জন্য শিক্ষা সহায়ক ভাতা; বছরে দুটি উৎসব ভাতা এবং মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা। Primary& Secondary Schooling (K-12)

এদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়েও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো নিজস্ব সার্ভিস রুলস বা আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়।

এদিকে নতুন পে স্কেল ঘিরে আরেকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—দেশের বিশাল বেসরকারি কর্মজীবী জনগোষ্ঠীর জন্য কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৯৫ শতাংশই বেসরকারি খাতে। শিল্প, সেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, গণমাধ্যমসহ অর্থনীতির প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ খাতেই বেসরকারি কর্মীদের অবদান রয়েছে।

তবে বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য এখনও সমন্বিত চাকরি-নীতিমালা, চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতনকাঠামো কিংবা কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। কয়েক বছর আগে বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের জন্য একটি সমন্বিত সার্ভিস রুলস প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বেসরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশের দাবি, সরকারি কর্মচারীদের জন্য বেতন বৃদ্ধি বাস্তবায়নের পাশাপাশি বেসরকারি কর্মীদের জন্যও ন্যূনতম কর্মসংস্থানের মানদণ্ড, চাকরির নিরাপত্তা, পেনশন সুবিধা এবং শ্রমবান্ধব নীতিমালা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, জনপ্রশাসন অর্থাৎ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পে-স্কেলের বিষয়টি মোটামুটি চূড়ান্ত হয়েছে। তবে কত শতাংশ বেতন বৃদ্ধি পাবে কিংবা কত ধাপে তা বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিটির সদস্যরাই জানাতে পারবেন। এছাড়াও পে-স্কেল কারা কেমন সুবিধা পাবেন সেই বিষয়েও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।