কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটের কারণে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিদিন শতশত মানুষ হাসপাতালটিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসে ।চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে । আর সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রাম অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষ। হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে তাদের বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এতে করে গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। আর অনেকে নিরুপায় হয়ে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে।

কলারোয়া উপজেলা ১২ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌর সভা নিয়ে গঠিত। এ উপজেলায় (ওয়েব সাইড তথ্য) প্রায় ২৩ লক্ষ ৭ হাজার ৯ শত ৯২জন মানুষেরা বসবাস। চিকিৎসার জন্য রয়েছে একটি মাত্র হাসপাতাল। ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন শতশত মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে। চিকিৎসা নিতে আসা অনেকেই ডাক্তার না পেয়ে ফিরে যায় বিনা চিকিৎসায়।

হাসপাতাল সুত্র থেকে জানা যায় কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার মোট পোষ্ট ২১ টি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ১ জন , আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্যাপ্ত) ১ জন, মেডিকেল অফিসার ২ জন,ডেন্টাল সার্জন ১ জন ,মোট ৫ জন কর্মরত। এর মধ্যে ১ জন ফাউন্ডেশন ট্রেনিং আছেন । বর্তমান ৪ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে জনবহুল উপজেলার ৫০ শয্যার এ হাসপাতালটি।আর হিমশিম খেতে হচ্ছে এ ৪ জন চিকিৎসকের ।সময় অসময় বিরামহীন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এই ৪ জন চিকিৎসক। সাথে সাথে নার্সদের উপর পড়েছে অতিরিক্ত চাপ।

হাসপাতালে সিজারিয়ান এর ব্যবস্থা থাকলেও বিশেযজ্ঞ গাইনি ডাক্তার না থাকায় সাধারণ গরীব গর্ভবতী মায়েরা ক্লিনিকে সিজার করতে হচ্ছে। এতে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলে মনে করেন ভোক্তভুগিরা। এদিকে এক্সেসেরে মেশিন থাকলেও রুগীদের বাইরে থেকে করে আনতে হয়। অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস অধিকাংশ সময় খারাপ থাকে। জরুরী রুগীর জন্য বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হয়।

সরে জমিনে গিয়ে দেখা গেছে , হাসপাতালটিতে সবসময় ধারণক্ষমতার বেশী রোগী ভর্তি আছে। এতে তাদের চিকিৎসা দিতে ডাক্তার ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে অনেক রোগী চলে যান স্থানীয় বে-সরকারি ক্লিনিকে। এর ফলে সাধারণ গরীব মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য ব্যাপার বলেন ভোক্তভুগিরা। হাসপাতালে ৪ জন পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কর্মী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে আছে ২ জন । ইতি মধ্যে তাদের চাকরী বয়স শেষের দিকে অর্থাৎ ২৫ সালের শেষে শেষ হয়ে যাবে বলে জানা গেছে।

কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশিষজ্ঞ চিকিৎসক ও জনবল সংকট থাকার কারণে এ উপজেলার সাধারণ মানুষ সঠিক চিকিৎসা সেব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে । সুশিলসমাজ ও রাজনৈতিক শিক্ষিত সমাজের ব্যক্তিবর্গ বলেন এ অবস্থায় চলতে থাকলে কলারোয়ার সাধারণ মানুষের সেবা দেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে তারা মনে করেন ।

এ ব্যাপারে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নীতিশ চন্দ্র গোলদার বলেন, আমিসহ ৪ জন চিকিৎসক দিয়ে সঠিক সেবা দিতে আমাদের খুবই হিমশিম খেতে হচ্ছে ডাক্তারের প্রয়োজন ডাক্তার সংকট এর সমাধা না হলে চিকিৎসা সেবার ব্যাহত হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জহুরুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি জেলা মিটিং এ আলোচনা করেছি দ্রুত সময়ে এর সমাধা হবে । এ বিষয় সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালাম বলেন সকল উপজেলায় ডাক্তার সংকটে আছে আশা করি আগামী এক মাসের মধ্যে ডাক্তার সংকট কেটে যাবে ।