মদন (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা : খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির বিক্রয়/বিতরণ কেন্দ্রের প্রায় ১০ গজ দূর থেকে জব্দ করা হয়ে ছিলো ২৯ বস্তা সরকারি চাল। জব্দের পরে নিয়মিত মামলার কথা জানালেও মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় চাল মজুদকারীকে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো উক্ত চাল স্থানীয় গরীব ও দুস্তদের মাঝে ৫ কেজি করে বিতরণ করে দেওয়া হবে।
কিন্তু ঘটনার ২৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কালোবাজারিদের সমন্বয়ে বিষয়টি ধামাচাপার চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়মিত মামলা করার কথা জানালেও মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় চাল মজুদকারীকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উক্ত জব্দ কৃত চাল স্থানীয় গরীব ও দুস্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে। ঘটনার ২৫ দিন পার হলেও চালের বস্তাগুলো এখনও থেকে যায় বরাটি বাজারের ওই চাল মজুদ কৃত ঘরে। এতে জনমনে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলছেন, চাল মজুদকারী এক ইউপি সদস্যের আত্মীয় হওয়ায়, ইউপি সচিব কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেস্টা করছেন। এ ব্যাপারে চাল মজুদকারী মোয়াটি গ্রামের ওয়াহাব জানান, ‘আমি চালের ব্যবসা করি। ডিলালের কাছ থেকে কার্ডধারীরা চাল এনে আমার কাছে বিক্রি করছে। তাই আমি চাল কিনে মজুদ করেছি।’
নায়েকপুর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার জানান, চাল মজুদকারী ওয়াহাব মিয়াকে মুচলেখা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ২৯ বস্তা চাল এখনো বরাটি বাজারেই জব্দ অবস্থায় আছে। গরীব ও দুস্তদের মাঝে বিতরণ করতে ইউএনও স্যার নির্দেশ দিয়ে ছিলেন। আমার পক্ষে একা চালগুলো বিতরণ করা সম্ভাব না, তাই বিতরণ করা হয়নি। নায়েকপুর ইউনিয়নের সহকারী কর্মকর্তা (ভূমি) নূরুল ইসলাম (ট্যাগ অফিসার) জানান, ‘আমি চাল বিতরণের বিষয়ে কিছু জানি না।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী জানান, ‘বরাটি বাজার থেকে জব্দ কৃত ২৯ বস্তা চাল জনপ্রতি ৫ কেজি করে স্থানীয় অসহায় ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করতে ইউনিয়ন প্রশাসকে (কৃষি অফিসার) নির্দেশ দিয়ে ছিলাম। এখন ইউনিয়ন প্রশাসকই ভালো বলতে পারবে।’