তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : সিরাজগঞ্জের তাড়াশে আশঙ্কাজনক হারে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির হিড়িক বেড়েই চলেছে ফলে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। গত সোমবার রাতে উপজেলার মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের দোবিলা গ্রামে মো. আবু ইউসুফ মাষ্টারের জমির আইলের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ৩টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। একই রাতে মো. আব্দুল মজিদের জমির আইলের খুঁটি থেকে ১টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটে। চুরি ঠেকাতে অনেক এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে লোহার শিকল দিয়ে ট্রান্সফরমার বেঁধে রেখেছেন ¯’ানীয়রা।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিয়ম অনুযায়ী, চুরি হলে ট্রান্সফরমারের মূল্যের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে হয় গ্রাহকদের যা দরিদ্র গ্রাহকদের জন্য খুব কষ্টের। যেকোনো মূল্যে চোর চক্রকে শনাক্ত করতে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন গ্রাহকেরা। গ্রাহক মো. আবু ইউসুফ মাষ্টার জানান, এখন ইরি-বোরো ধান রোপণের জন্য মাঠে পানি দিতে হ”েছ কিš‘ ট্রান্সফরমার না থাকায় চরম বিপদে পড়েছি। ট্রান্সফরমার থাকে বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপরে, এটা পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। চুরি ঠেকাতে কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান এই কৃষক।
ট্রান্সফরমার চুরি এড়াতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাড়াশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো: অজিজুল হক তিনি জানান, চুরির খবর পাওয়ার পরেই গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট থানায় আমরা মামলা করতে বলেছি। চুরি ঠেকাতে গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা জরুরি। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি চুরির ঘটনা একই রকম। চোরেরা ট্রান্সফরমারের ভেতরে থাকা মূল্যবান তামার তার নিয়ে ধাতব গোল বাক্স ও তেল ফেলে চলে যায়। ভাংরির দোকানগুলোতে নজরদারি বাড়াতে পারলে চোর ধরা সম্ভব বলে মনে করেন পল্লী বিদ্যুতের এই কর্মকর্তা।
অপদিকে চলনবিলের গুরুদাসপুরে একই পরিবারের তিন বাপ-বেটার ছয়টি গরু চুরি যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে উপজেলার আনন্দনগর মহল্লাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ
করছে। মঙ্গলবার রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে সংঘবদ্ধ একটি চক্র গরুগুলো চুরি করে। এতে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে পরিবারটি।
গরুর মালিক রমজান হাজী (৭২) বলেন- গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত মুখোশ পরে এবং দেশীয় অস্ত্র (হাসুয়া) নিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা বাড়ির গোয়ালঘর থেকে ৩টি গাভি গরু, ২টি বাছুর এবং ১টি ষাঁড় গরুসহ মোট ৬টি গরু চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি এতটাই পরিকল্পিত ছিল যে, পরিবারের কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোরেরা গরুগুলো নিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তার প্রায় ১১ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
রমজান হাজীর দুই ছেলে মো. আজিজুল (৪৫) ও মো. আলামিন (৩৫) জানান, এই গরুগুলোর ওপর তাদের পরিবারের একমাত্র জীবিকা নির্ভরশীল ছিল। হঠাৎ সব গরু হারিয়ে তারা সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন।
তারা বলেন- ‘আমরা গরু লালনপালন করেই সংসার চালাই। গরুগুলো চুরি হওয়ায় পথে বসার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে গরুগুলো উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।’
গুরুদাসপুর থানার ওসি মনজুরুল আলম বলেন- ‘পুলিশ ঘটনা¯’ল পরিদর্শন করেছে। চুরি হওয়া গরু উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।’