রামু (কক্সবাজার) সংবাদদাতা : কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে কৃষি নির্ভর এলাকা হিসেবে পরিচিত। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ সরাসরি কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। এখানে কৃষিই প্রধান জীবিকা। বিশেষ করে বিভিন্ন চর ও বিলাঞ্চলে ব্যাপকভাবে ধান চাষ হয়ে থাকে, যা মূলত বিদ্যুৎচালিত সেচ ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল।

লোডশেডিংয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সারাদিনে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ মিলছে না। বিদ্যুৎ এলে তা মাত্র ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়, আবার অনেক ক্ষেত্রে একবার চলে গেলে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে সময়মতো সেচ দিতে না পারায় বীজতলা শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে এবং ধানক্ষেত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

গর্জনিয়া ইউনিয়নের কৃষক আলী হোসেন বলেন, “বিদ্যুতের অভাবে ঠিকমতো পানি দিতে পারছি না। ফলে ধান পূর্ণতা পাওয়ার আগেই লাল হয়ে যাচ্ছে।” একইভাবে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের কৃষক মাবুদ জানান, “ভালো ফলনের আশা ছিল, কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে ধান আগেই পেকে যাচ্ছে, যা বড় ধরনের ক্ষতির ইঙ্গিত।”

কৃষকদের দাবি, দ্রুত লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে আনা না হলে এ মৌসুমে বড় ধরনের উৎপাদন ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-এর রামু কার্যালয়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় কৃষকরা জরুরি ভিত্তিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।