কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা : বন্যা ও স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে কেশবপুর উপজেলার ৩ নদী ও ১০ সংযোগ খাল পুনঃখননে পাউবো প্রায় ১৪০ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৩ নদীর ৮২ কিলোমিটার ও পাউবো’র তত্ত্বাবধানে ১০ খালের ৩১ কিলোমিটার খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
জানা গেছে, কেশবপুর ও মনিরামপুর উপজেলার বর্ষার অতিরিক্ত পানি হরিহর, বুড়িভদ্রা ও আপারভদ্রা নদী দিয়ে হরি নদীতে নিষ্কাশন হয়। এসব নদীর সংযোগ খালে পাউবোর ৯১টি স্লুইচ গেট ও অসংখ্য পোল্ডার রয়েছে। এসব পোল্ডারের দু‘পাশ পলিতে ভরাট হয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ রয়েছে। এর ফলে প্লাবনভূমির সঙ্গে নদীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে বর্তমানে হরি, আপারভদ্রা ও হরিহর নদীতে জোয়ার-ভাটা উঠে না। নদীগুলো বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হয়ে বন্যায় রূপ নিচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব নদী খনন করা হলেও এক বছর না যেতেই নদীগুলো আবারও পলিতে ভরাট হয়ে যায়। একারণে নদী অববাহিকার জনগণ দীর্ঘদিন ধরে হরি নদীর বিল কপালিয়ায় টিআরএম বাস্তবায়ন ও পোল্ডারে আবদ্ধ নদ-নদী উন্মুক্তের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু জনগণের এদাবি উপেক্ষা করে আবারও পাউবো নদী খনন প্রকল্প গ্রহণ করে।
পাউবো সূত্রে জানায়, চলতি বছর হরি নদীর খর্নিয়া ব্রিজ থেকে ভবদহের ২১ ভেন্ট স্লুইস গেট পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার, হরি নদীর শাখা আপারভদ্রার কাশিমপুর থেকে মঙ্গলকোট ব্রিজ পর্যন্ত ১৮.৫০ কিলোমিটার, বড়েঙ্গার তিন নদীর মোহনার জিরো পয়েন্ট থেকে কেশবপুর ও মনিরামপুর হয়ে রাজগঞ্জ রোর্ড পর্যন্ত হরিহর নদীর ৩৫ কিলোমিটার সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং ১০টি সংযোগ খালের মধ্যে নুরানিয়ার-৬.৫ কিলোমিটার, বাদুড়িয়ার-৩ কিলোমিটার, শাখা নদী বুড়িভদ্রার-৫ কিলোমিটার, গরালিয়ার-১.৩৫০ কিলোমিটার, কন্দর্পপুরের-১ কিলোমিটার, কাশিমপুরের-১ কিলোমিটার, ভায়নার-১.৫০ কিলোমিটার, বিল খুকশিয়ার-৭.৫০ কিলোমিটার, বুড়–লির-৩ কিলোমিটার ও পাথরার-১.৫০ কিলোমিটার খাল পাউবো’র অধীনে পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়ন করছে। নদীর সীমানা নির্ধারণসহ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এসব নদী-খাল খননে ১৩৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।