মো. আবু সাঈদ গালিব, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) : দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুবাবাদ ইউনিয়নের পোল্যাকান্দি মধ্যপাড়া দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙন প্রতিনিয়ত নিঃস্ব করেছে শত শত মানুষকে। ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আগামী বর্ষার আগেই কয়েকটি গ্রাম সম্পূর্ণরূপে নদী গর্ভে চলে যাবে ভেবে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের বাসিন্দারা নদীভাঙ্গন হতে রক্ষা পেতে এলাকাবাসী ও সকল পেশাজীবীর লোকজন বিক্ষোভ করেন গত সোমবার বেলা ১১ ঘটিকায় মানববন্ধন সংঘটিত হয় নদের পাড়ে।
এ সময় বক্তারা বলেন, দিন দিন দেওয়ানগঞ্জে উপজেলার মানচিত্র হতে বাহাদুবাবাদ ইউনিয়নটি বিলিন হয়ে যাচ্ছে, নদের পূর্ব পাড়ে বাহাদুরাবাদ দিয়ে বয়ে যাওয়াও দেওয়ানগঞ্জ হতে রৌমারি রাজিবপুরের মেইন রাস্তাটি হুমকির মুখে এবং রাস্তা সংলগ্ন পোলাকান্দি ব্রিজ বাজার সরতারপাগা বাজার থেকে গুলুগার্ড অপর দিকে ব্রহ্মপুত্রে পশ্চিম পাড়েও যমুনার তীব্র ভাঙ্গনে খোলাবাড়ি এলাকা হতে মন্ডল বাজার পর্যন্ত ৬ কিলোমিটারের অধিক জুড়ে তীব্র ভাঙন চলছে। ভাঙনের শিকার হচ্ছে চর মাগুরি হাট, কিশোর মোড়, হুদার মোড়, হাজারী গ্রাম, চর ডাকাতিয়া পাড়া, খাঁন পাড়া, মাঝি পাড়া এলাগুলো। গত কিছুদিন আগেই বিলিন হয়ে গেছে চরডাকাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আরো যেকোনো সময় বিলিন হতে পারে দেলোয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়, কয়েকটি মসজিদ, মাদরাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক, ব্রিজ সহ কোটি কোটি টাকার গ্রামীণ অবকাঠামো।
যমুনার ভাঙনে নিঃস্ব হওয়া আব্দুল মজিদ মাঝি, আব্দুল আওয়াল, সজিব বাবু, রায়হান মিয়া, গালিব, মনি খাতুন, রেহানা, ইয়াসমিন বেগমের ভাষ্য, প্রতিবছর এই অঞ্চলের মানুষ নদীতে ভিটে-মাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়। মাথা গুজার ঠাঁই জুটে অন্যের বাড়ির উঠানে। এরপর ক্ষেত-খামারে দিনমজুরি করে, ঢাকায় রিক্সা চালিয়ে, গার্মেন্টেস এ চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করে। কয়েক বছর টাকা জমিয়ে নতুন করে ভিটে করে। সেই নতুন ভিটেগুলোও দুই-তিন বছর পর আবারো ভাঙনের শিকার হয়। এভাবে একটি পরিবার দুই-তিন বার ভাঙনের শিকার হয়। যার অন্যতম কারণ যমুনার তীব্র ভাঙন। স্থানীয়রা আরো বলেন, নদী পাড়ের মানুষের দুঃখের কথা চিন্তা করে এখনই পদক্ষেপ নেয়া জরুরী। নয়তো দেওয়ানগঞ্জ শহরটিই হুমকির মুখে পড়বে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, যমুনার ভাঙনের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে। জামালপুর জেলা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ঐ এলাকায় নদী ভাঙছে। ভাঙন রোধে সাড়ে ৫ কি.মি এলাকার ভাঙন রোধ প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। অত্র বিক্ষোভটি মিজানুর রহমানের সার্বিক সহোযোগিতা ও নেতৃত্বে সফলভাবে সমাপ্তি ঘটে।