বর্তমান সরকার একদিকে সংবিধান রক্ষার কথা বলছে, অন্যদিকে সংবিধান লংঘন করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলে সংবিধানে কিছু নেই। কাজেই এ সরকারের অধীনে নির্বাচনও সংবিধান পরিপন্থি। বাংলাদেশে এখন অবাধ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান এর মত পরিবেশ বিরাজমান নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। সরকারের অনেক অর্জন থাকলেও ব্যর্থতাও রয়েছে। লুটেরা মাফিয়া শ্রেণি নিয়ে ঐকমত্য কমিশন গঠন করা গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষার পরিপন্থি। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত সরকারে সাংবিধানিক প্রতি বিপ্লব হয়েছে। এখানে জনগণের অভিপ্রায়ের প্রতিফলন ঘটেনি। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আয়োজন করা গ্রহণযোগ্য নয়।
গতকাল মঙ্গলবার সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি এন্ড পিস স্টাডিজ আয়োজিত ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও নির্বাচন শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, আমরা একটি রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী। আমাদের বিরুদ্ধে সব সময় ষড়যন্ত্র হবে এটাই স্বাভাবিক। জনগণের অভিপ্রায় আমাদের বুঝতে হবে। শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া সংবিধানের অধীনে কোন নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না। পুরোনো আইন ও সংবিধান উৎখাত করে নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়নের মধ্য দিয়ে নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন করবার জন্য জনগণ নিজেরা ফ্যাসিস্ট সংবিধান ও ব্যবস্থা উৎখাত করেছে।
জাতীয় প্রেস ক্লাব অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক সচিব ও কূটনৈতিক আব্দুল্লাহ আল মামুন। সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি এন্ড পিচ স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সাংবাদিক সাদেক রহমান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু হেনা রাজ্জাকী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিচার কার্যকরের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থার কবর রচনা করতে হবে। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন এর মাধ্যমে আমরা মাফিয়া লুটেরা চাঁদাবাজ দখলবাজদের প্রভাব মুক্ত হতে পারি।
অ্যাডভোকেট আবু হেনা রাজ্জাকী বলেন এই সরকার ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের আয়োজন করতে চায় যা সংবিধানের কোথাও নাই। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধারণাও সংবিধানে নাই। প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া যেন তেন প্রকারের একটি নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন, কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক, প্রফেসর ড. দেওয়ান সাজ্জাদ, ড.হুমায়ুন কবির, ড. এ আর খান, বিশিষ্ট লেখক গবেষক এমরান চৌধুরী, নতুন ধারা জনতার পার্টির চেয়ারম্যান আব্দুল আহাদ নূর, লেখক, গবেষক আলাউদ্দিন কামরুল, বিশিষ্ট লেখক গবেষক আয়েশা সিদ্দিকা, বাংলাদেশ জনতা ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আবু আহাদ আল মামুন, জাস্টিস পার্টির চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মজুমদার, তাসলিমা ইসলাম প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।