আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ সংলগ্ন অকেজো জায়গায় বছরের পর বছর ধরে জীবনযাপন করছে শত শত ভূমিহীন পরিবার। জীবনের শেষ অবলম্বন হিসেবে এই জায়গাগুলোই তাদের ঘরবাড়ি, তাদের বেঁচে থাকার আশ্রয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পাউবোর উচ্ছেদ নোটিশ ও মাইকিং শুনে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে এক অমানিশার ঘন অন্ধকার। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে শিশু, নারী, বৃদ্ধসহ হাজারো মানুষ। মেরিন একাডেমির পাশে বসবাসরত মোহাম্মদ নবী হোসেন কান্নাজনিত কণ্ঠে জানান, আমাদের যদি উচ্ছেদ করে দেওয়া হয় তাহলে কোথায় যাব? আমাদের থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। সন্তান-সন্ততি, স্ত্রীকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচেই থাকতে হবে। এই আর্তনাদ শুধু নবী হোসেনের নয়, এটি শত শত পরিবারের হাহাকার। যেখানে দিনের পর দিন শ্রমজীবী মানুষ অর্ধাহারে-অনাহারে থেকেও মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছিল, আজ সেই জায়গাটুকু হারানোর ভয়ে তারা অস্থির। অভিযোগ উঠেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড যে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে যাচ্ছে, সেখানে কোনো তাৎক্ষণিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনাই নেই। বরং উচ্ছেদের পর জনশূন্য হয়ে পড়া জায়গাগুলো হয়ে উঠতে পারে চুরি-ডাকাতি, সন্ত্রাস ও নারীদের ইভটিজিংয়ের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। স্থানীয়রা তাই প্রশ্ন তুলছেন যখন কোনো উন্নয়ন কাজই হবে না, তখন কেন নিরীহ অসহায় মানুষগুলোকে রাতারাতি উচ্ছেদ করা হচ্ছে? স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিবারগুলো ইতোমধ্যেই একাধিক মানববন্ধন করেছে এবং প্রশাসনের কাছে দরখাস্ত জমা দিয়েছে উচ্ছেদ স্থগিত করার অনুরোধে। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে তারা প্রতিদিন অজানা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। শিশুদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ হয়ে গেছে, অনেকেই কাজ ছেড়ে দিচ্ছে শুধু মাথার উপর ছাদ থাকবে কিনা এই শঙ্কায়। আনোয়ারার সচেতন মহল বলছেন, শুধু এই বেড়িবাঁধের জায়গা নয়, পারকী সাপমারা খাল থেকে শুরু করে হাইলধর পর্যন্ত পাউবোর অসংখ্য জায়গা অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। আনোয়ারায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৪৫ একর জায়গা রয়েছে সেখানে কোনো উচ্ছেদ অভিযান হয় না। তাহলে কেন শুধুমাত্র গরিব মানুষের মাথার ওপরই এমন নির্মম আঘাত নেমে আসছে? এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে।