কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা : ঝিনাইদহে কোটচাঁদপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে তিন জামায়াত নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিল ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের তাবেদার পুলিশ বাহিনী। দীর্ঘ প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় পার হলেও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইতে পারিনি। বরং তৎকালীন সময়ে থানা পুলিশ উল্টা মামলা করে ওই পরিবারগুলোর একাধিক সদস্যদের বিরুদ্ধে। তাদের উপর চাপিয়েছে হত্যার শিকার হওয়া স্বজন হত্যার মামলা ও গায়েবী মামলা। চালিয়েছে গ্রেপ্তার ও অসহ্য নির্যাতন।
ঝিনাইদহ-৩ আসনটি (কোটচাঁদপুর-মহেশপুর) মূলত বিএনপি ও জামায়াতের ঘাঁটি। জামায়াতের প্রভাব বেশি থাকার কারণে আওয়ামীলীগ শাসনামলে জামায়াতকে দমন করতে ও আওয়ামীলীগের শক্ত অবস্থান গড়তে পুলিশের গায়েবী মামলা ছিল একমাত্র অস্ত্র। এ মামলাকে পুঁজি করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের একের পর এক গায়েবী মামলা চাপানো হয়েছে। সর্ব প্রথম আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর উপর মিথ্যা মামলার ফাঁসীর রায়ে সাঈদী ভক্ত সাধারণ জনতা রাস্তায় নেমে আসলে পুলিশ দমন-পীড়ন চালাই এবং গণ গ্রেফতার শুরু করে। এরপর ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগ মুহূর্ত থেকে বিরোধীদের ওপর চরম নিপীড়ন শুরু হয়। ২০১৩ সালের ৩০ নভেম্বর বিরোধীদের ৭২ ঘণ্টা অবরোধের প্রথম দিনেই দুপুর ১২টার দিকে মেইন বাস স্ট্যান্ডে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় উপজেলা হরিন্দিয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শিবির কর্মী ইসরাইল হোসেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের ওপর হামলা, বোমা বিস্ফোরণের মিথ্যা অভিযোগ এনে ৫৪ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশ। মামলার এক নম্বর আসামি করা হয় পুলিশের গুলিতে নিহত ইসরাইল হোসেনের পিতা শহিদুল ইসলামকে। ২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বের হবার সময় উপজেলা পরিষদের গেট থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে থানার এস আই মিজান, এস আই সৈয়দ আলীসহ ছয়/সাতজন পুলিশ সদস্য তাদের পিকাপে জামায়াত নেতা এনামুল হক মাস্টারকে তুলে নিয়ে যায়। পরের দিন ভোরে নওদাগা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে লাশ পাওয়া যায়। ২০১৪ সালের ১৮ এপ্রিল বলাবাড়ীয়া গ্রামের জনপ্রিয় ইউপি সদস্য আবুল কালামকে নিজ বাড়ী থেকে এসআই মিজানের নেতৃত্বে ৪/৫ পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন থানায় গেলে থানা পুলিশ গ্রেফতার অস্বীকার করে। ২১ এপ্রিল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গোপালপুরের মাঠে তার লাশ পাওয়া যায়।