বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান বলেছেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে আমাদের দেড় হাজারেরও অধিক শাহাদাত এবং ৩০ হাজারের অধিক আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড, বিচার ও সংস্কার ছাড়া নির্বাচন কোনক্রমেই অর্থবহ হবে না। তাই নির্বাচনের আগে দৃশ্যমান বিচার ও সংস্কার করতে হবে। তিনি গত রোববার সকালে বাউফল উপজেলা অডিটোরিয়ামে বাউফলে জামায়াতে ইসলামীর ভোটকেন্দ্র ভিত্তিক প্রতিনিধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর বাউফল উপজেলা আমির মাওলানা মো: ইসহাক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম মাসুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর পটুয়াখালী জেলা আমির এডভোকেট নাজমুল আহসান, জেলা সেক্রেটারি শহীদুল্লাহ আল কায়সারী, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক এবিএম সাইফুল্লাহ, বাউফল উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি অধ্যাপক মো: খালিদুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান আরো বলেন -দুনিয়ার জীবনটা সীমিত সময়ের জন্য। সে জীবনের জন্য বেশি প্রস্তুতি নেয়ার দরকার নেই। আখেরাতের জীবনের জন্য বেশি প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা দুনিয়ার জীবনকে ব্যবহার করবো আখেরাতে ভালো থাকার জন্য। আমাদের দল বাছাই করতে হবে যারা দুনিয়ার জীবনকে কাজে লাগায় আখেরাতে ভালো থাকার জন্য। বাংলাদেশ জামায়ােত ইসলামী সেরকমই একটি দল যে দুনিয়ার জীবনকে কাজে লাগিয়ে আখেরাতে মানুষকে ভালো রাখতে চায়। যে দল আখেরাতের জন্য কোন কাজ করে না সে দলে আমরা কখনোই যাবো না।

তিনি আরো বলেন নামাজ চালু হলে মানুষের চরিত্র বদলে যাবে আর যাকাত চালু হলে মানুষের অর্থনীতি বদলে যাবে। আল্লাহর আইন চালু হলে সোনার বাংলা গঠিত হবে যেমনি গঠিত হয়েছিল সোনার মদিনা। আল্লাহর আইন চালু হলে ঘুষ দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বন্ধ হবে। যে সরকার জনগণকে ভালোবাসে এবং জনগণ সরকারকে ভালোবাসে সে সরকার হল উত্তম সরকার। আগামী দিনে আমরা এমন ব্যক্তিকে সংসদে পাঠাবো যারা আল্লাহর আইন চায়। সরকার পরিবর্তনের জন্য আগে যেমন ছিল বুলেট এখন হলো ব্যালট।

ডঃ শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন -একটি দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের দাবি আমাদেরও। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি ১৫ বছর ধৈর্যধারণ করেছে। যদি একটি মেচিউরড নির্বাচনের জন্য যদি আরো ধৈর্যধারণ করতে হয় তবে ধৈর্যধারণ করবে কিন্তু কোন ইমমেচিউরড নির্বাচন হতে দেবে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো তৈরি হয়নি। যারা গোপালগঞ্জ একটা জেলাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি তারা কিভাবে এতগুলো নির্বাচন একসাথে নিয়ন্ত্রণ করবে।

ডক্টর মাসুদ আরো বলেন -জামায়াত তাকওয়া ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের জন্য কাজ করছে। জামায়াতের কাছে আলাদিনের চেরাগ নেই কিন্তু তাকওয়া ভিত্তিক সমাজবিনির্মাণ করে সমস্ত বরকতের চাবি জনগণের হাতে তুলে দিতে চায়।জামায়াত ইসলামী দুর্নীতিমুক্ত চাঁদাবাজ মুক্ত দখলদার মুক্ত একটি বাউফল গড়তে চায়। জামায়াতে ইসলামী ভোগের রাজনীতি করে না এর বাস্তব প্রমাণ হলো এ দলে কোন নেতৃত্বের কোন্দল নেই। জামাত ইসলামী আল্লাহকে ছাড়া আর কাউকে ভয় করে না। অন্যায় ভাবে তাদের উপর যদি লাগতে আসা হয় তাহলে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য যা করার জামায়াত তাই করবে।একটি কেন্দ্র শুধু নয় একজন ভোটারও অধিকার ক্ষুন্ন হতে দেবে না।

ডক্টর মাসুদ আরো বলেন -আমাদের ভালো কাজগুলো যদি কারো মাথা ব্যাথার কারণ হয় তাহলে বুঝতে হবে আমাদের ভালো কাজগুলো বাউফলকে নাড়া দিতে সক্ষম হয়েছে। তাদের প্রত্যেকটি নেতিবাচক কাজের জবাব দিব আমরা ইতিবাচক কাজের মধ্য দিয়ে। কাড়াকাড়ি নয় আমরা গলাগলির মাধ্যমে বাউফলকে জয় করব।