মফিজুর রহমান, অভয়নগর (যশোর) : দেশের অন্যতম শিল্প, বাণিজ্য বন্দর নগরী নওয়াপাড়া নদীবন্দর। যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ার বুক চিরে প্রবাহিত হয়েছে নদীটি। এই নদীতে সব সময় ড্রেজিং চলে। কিন্তু সম্প্রতি ড্রেজিং কার্যক্রম নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। খননের পর উত্তোলিত মাটি আবারও ভৈরব নদেই ফেলা হচ্ছে-এমন অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর এই ‘পরিকল্পনাহীন’ উদ্যোগে সুফল তো মিলছেই না, বরং উল্টো নদের নাব্য আরও দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নাব্য সংকটে ভুগছে ভৈরব নদ। এ সংকট নিরসনে বিআইডব্লিউটিএ নিজস্ব ড্রেজার দিয়ে নিয়মিত খনন চালিয়ে আসছে। কিন্তু মাটি ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় পাইপের মাধ্যমে উত্তোলিত পলি ও বালি আবার নদীর স্রোতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এতে স্রোতের টানে সেই মাটি পুনরায় নদীর তলদেশে জমা হয়ে নদের গভীরতা বৃদ্ধির পরিবর্তে ভরাটের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

ফলে নওয়াপাড়া নদীবন্দর তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারাতে বসেছে। এই বন্দরকে ঘিরে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী এখন পড়েছেন অনিশ্চয়তায়।

নওয়াপাড়া নদীবন্দর রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে বড় আকারের ড্রেজিং ও উন্নয়ন প্রকল্পের দাবি জানানো হলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। অতীতে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর বৈঠকে তোলা হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। ফলে বড় প্রকল্পের অভাবে স্থানীয় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ একটি মাত্র ড্রেজার দিয়ে দায়সারাভাবে নদী সচল রাখার চেষ্টা করছে।

নওয়াপাড়া নদীবন্দরের উপ-পরিচালক মাসুদ পারভেজ এ বিষয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, “মাটি বা বালু ফেলার জায়গা পেতে আমরা নিরলস চেষ্টা চালাচ্ছি, কিন্তু কোনো সমাধান মিলছে না। ব্যবসায়ীদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া ড্রেজিংয়ের সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।”

তিনি আরও জানান, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হলেও কেউ মাটি অপসারণে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে বন্দরের ভাঙ্গা গেট থেকে রাজঘাট পর্যন্ত ড্রেজিং কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট, খাদ্যশস্য ও কয়লা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ শাহ্ জালাল হোসেন বলেন, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। কয়েক দিনের মধ্যে নওয়াপাড়ায় ফিরে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।

স্থানীয়দের মতে, ড্রেজিংয়ের মাটি নদীতে বা যত্রতত্র ফেলার প্রবণতা বন্ধ করে দ্রুত স্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্ধারণ এবং বড় আকারের কার্যকর ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি। অন্যথায় অচিরেই নওয়াপাড়া নদীবন্দর তার গুরুত্ব ও সক্ষমতা পুরোপুরি হারাবে। ড্রেজিংয়ের নামে এই ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ বন্ধ না হলে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর ও শিল্পাঞ্চল বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।