পার্বত্য চট্টগ্রাম সংবাদদাতা: তিনদিনের অস্বস্থিকর পরিবেশ কাটিয়ে সোমবার শান্ত ও সুনসান নিরবতায় দিন কেটেছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির। গতকাল সোমবারও যুগপৎভাবে ১৪৪ ধারা এবং অবরোধ বলবৎ ছিল। পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় সংঘাতের জেরে আতঙ্ক কাটেনি এলাকায়। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫) দুপুর ১২টা থেকে খাগড়াছড়ি চট্টগ্রাম-ঢাকা সড়কে অবরোধ শিথিল করা হয়। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলায় অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হলেও রাঙামাটি ও বান্দরবানে এই ঘটনা ও অবরোধের কোনো প্রভাব পড়েনি, অন্য দুই জেলায় পরিস্থিতি একেবারেই স্বাভাবিক ছিল। জুম্ম ছাত্র-জনতা কর্তৃক অনির্দিষ্টকালের এই সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়া হয়।

গতকাল সোমবার ১৪৪ ধারার পাশপাশি বেশ কঠোর ও শক্ত অবস্থানে ছিল প্রশাসন। দিনভর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আর্ম পুলিশ মোতায়েন ছিল। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করায় দুস্কৃতকারীরা তেমন কোথাও দাঁড়াতে পারেনি। খাগড়াছড়ি সদরের পাশাপাশি ও গুইমারা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন ছিল।

এদিকে- রোববার নিহত ৩ জনের নাম পরিচয় শনাক্ত হয়েছে তারা হলেন, গুইমারার বটতলা পাড়ার বাসিন্দা হ্লাচাই মারমার ছেলে থোয়াইচিং মারমা (২৫), সাইংগুলি পাড়ার বাসিন্দা আপ্রু মারমা ছেলে আখ্র মারমা (২৪) ও গুইমারার হাফছড়ি গ্রাম লিচু বাগানের বাসিন্দা থোয়াইহ্লাঅং মারমার ছেলে আথুইপ্রু মারমা (২)। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহতদের লাশ ময়না তদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল মর্গে ছিল। খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) রিপল বাপ্পি চাকমা জানান, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাওয়া গেলে তারা ময়না তদন্ত সম্পন্ন করবেন।

প্রসঙ্গত, অষ্টম শ্রেণিতে পড়–য়া এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আন্দোলন কেন্দ্র করে খাগড়াছড়িতে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।