মোংলা সংবাদদাতা : বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে সুন্দরবনের প্রাণ পশুর নদী রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তাঁদের মতে, কয়লা, শিল্পবর্জ্য, প্লাস্টিক ও বিষের মতো বহুমুখী দূষণে ইতোমধ্যেই পশুর নদীর পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে শুধু নদী নয়, সুন্দরবনসহ পুরো উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়বে। গত রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) মোংলার দক্ষিণ কাইনমারী পশুর নদীর তীরে “পশুর নদী বাঁচাও, সুন্দরবন বাঁচাও” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বলেন, নদী কেবল জলাধার নয়, এটি একটি জীবন্ত সত্তা। নদী আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই দখল, দূষণ ও বিষের আঘাত থেকে সুন্দরবনের নদ-নদীসহ সারাদেশের জলপথ রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “নদী-খালে যারা বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করছে, তাদের প্রতিহত করতে হবে। একইভাবে নদী দখলকারীদের সামাজিকভাবে বয়কট করা জরুরি। নদী বাঁচলে উপকূল বাঁচবে, আর উপকূল বাঁচলেই বাংলাদেশ বাঁচবে।” তিনি আরও জানান, গবেষণায় পশুর নদীর মাছের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা পাওয়া গেছে, যা জলজ প্রাণী ও মানুষের জন্য ভয়াবহ সংকেত। তাঁর আহ্বান—যে কোনো মূল্যে পশুর নদীসহ সুন্দরবনের নদ-নদীকে কয়লা, প্লাস্টিক, শিল্পবর্জ্য ও বিষমুক্ত করতে হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সমাজসেবক আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সমাজকর্মী আবু হোসেন পনি, ক্রীড়া সংগঠক শেখ রুস্তম আলী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু তালেব হাওলাদার, শেখ শাকির হোসেন, মৃধা ফারুকুল ইসলাম, পরিবেশকর্মী আব্দুর রশিদ হাওলাদার ও পরিবেশযোদ্ধা মো. নূর আলম শেখ প্রমুখ। বক্তারা একবাক্যে বলেন, নদীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা মানেই জীববৈচিত্র্য, মানবজীবন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে টিকিয়ে রাখা।

আলোচনা সভার পর দুপুর সাড়ে ১২টায় নদী রক্ষায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি পশুর নদীতে হাঁস ধরা প্রতিযোগিতা, সাঁতার প্রতিযোগিতা এবং গণগোসলের আয়োজন করা হয়। পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ‘ইয়ুথ ফর সুন্দরবন’ সংগঠনের উদ্যোগে নদীকে প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণমুক্ত রাখতে স্থানীয়দের মাঝে পাটের ব্যাগ বিতরণ করা হয়।