কাপ্তাই সংবাদদাতা : চন্দ্রঘোনা-রাঙ্গুনিয়ায় শস্যভান্ডারখ্যাত গুমাইবিলে ইটের ভাটা নষ্ট করে চলছে চাষাবাদের স্বাভাবিক পরিবেশ। ইট তৈরির জন্য মাটির যোগানে টপ সয়েল কাটা হয় ব্যাপকভাবে। এতে উর্বরতা হারায় ফসলি জমি। ইট পোড়াতে ব্যবহার হয় জ্বালানি কাঠ। চিমনিতে নির্গত কালো ধুঁয়ায় ছেয়ে যায় বিলের আকাশ। কালো আস্তরন পড়ে সবুজ রোপা এবং ধানের শীষে।

এমনি ক্ষতিকর প্রভাবে চাষাবাদে কাক্সিক্ষত ফসল মিলছেনা বিলের কৃষিতে। হারিয়ে যেতে বসেছে গুমাই বিলের খ্যাতি।

অভিযোগ পাওয়া যায়, ফসলি জমিতে কোন স্থাপনা করা যাবেনা মর্মে আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। অথচ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই আইনের তোয়াক্কা না করে রাঙ্গুনিয়া গুমাই বিলে বছরের পর বছর ধরে নির্বিঘেœ চলে আসছে ইটের ভাটার কার্যক্রম। ভূমি প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের আদেশেও ইটের ভাটা উচ্ছেদ হয়না। রহস্যময় যোগসাজসে বহাল তবিয়তে চলছে এই ভাটা। উচ্ছেদের কথা বলা হলেও চলতি মৌসুমেও যথারীতি ইট তৈরির আগাম প্রস্তুতি চলছে। এতে হতাশ হয়ে পড়েছে বিলের কৃষক। উল্লেখ্য, উপজেলার চন্দ্রঘোনা, হোসনাবাদ, মরিয়ম নগর ও স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়ন বেষ্টিত দশহাজার একরেরও বেশি আয়তনের গুমাইবিল। কর্নফুলি সেচ প্রকল্পের আওতায় এই বিলে পরিকল্পিত চাষাবাদ হয়। ধানের চাষাবাদে উৎপাদনে দেশজুড়ে খ্যাতি রয়েছে।এলাকার খাদ্য চাহিদার অতিরিক্ত ধান উৎপাদনে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখে এই গুমাই বিলের ফসল।

বিলের কৃষক আবদুল মোনাফ জানান, দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে গুমাই বিলে ইটের ভাটার ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে জমির উর্বরতা।

কৃষকের অনেকে অভিযোগ করে বলেন, ইটের ভাটি গুমাই বিলের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস বলেন, টপসয়েল কাটায় জমিতে উর্বরতা থাকে না। গুমাই বিলে পরিবেশ বিধংসি ইটভাটা বন্ধ করতে হবে।চাষাবাদে পরিবেশ রক্ষা ও গুমাইবিলে ফসল উৎপাদনের খ্যাতি ফিরিয়ে আনতে ইটের ভাটা বন্ধের জোর দাবি কৃষকের। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন গুমাই বিলের আশপাশে ইটের ভাটায় ফসল উৎপাদনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে বলে নানা মাধ্যমে অবগত হচ্ছি, এ বিষয়ে ক্ষতিকর ইটভাটা বন্ধে প্রশাসনকে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।