মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা : নরসিংদীর মাধবদীতে প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যাওয়ার কারণে প্রেমিক সাজ্জাত হোসেন ও তার ভাইসহ পরিবারের লোকজনদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছেন প্রেমিকার স্বজনরা। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে প্রেমিকা ও তার চাচাসহ স্বজনদের বাড়িতে আগুন দিয়েছেন আহত প্রেমিক সাজ্জাতের স্বজনরা।

রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার মাধবদী থানাধীন খনমর্দ্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় রাতেই প্রেমিকার ভাই আমির হোসেনের ছেলে আল আমিনকে গ্রেফতার করেছে মাধবদী পুলিশ।

আহত প্রেমিক সাজ্জাত হোসেন (২২) মাধবদী থানাধীন খনর্মদ্দি এলাকার মাহতাব মিয়ার ছেলে।

আহতের স্বজন, পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই খরমুদ্দি এলাকার যুবক সাজ্জাতের সঙ্গে একই এলাকার আমির হোসেনের মেয়ে ফারজানা আক্তারের সম্পর্ক চলছিল। সম্প্রতি ফারজানা প্রেমিক সাজ্জাদের সঙ্গে পালিয়ে যায়। পরে ফারজানার পরিবার প্রেমিক সাজ্জাতের কাছ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে এলেও দ্বিতীয়বার আবার ওই প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যায়।

ফারজানার পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মেয়েকে পূনরায় বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় ফারজানার স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে রোববার সকালে লোকজন সাজ্জাদ ও তার ভাই সহ স্বজনদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। পরে তাদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। গুরুত্বর আহত অবস্হায় সাজ্জাতকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সাজ্জাত সহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ার খবর শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে সাজ্জাতের পরিবার ও স্বজনরা মিলে প্রেমিকা ফারজানার বাড়ি, তার চাচা ও ফুফুসহ চারটি বাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এলে তাদের আটকে দেওয়া হয়। এতে ঘরের আসবাপত্রসহ যাবতীয় সরঞ্জাম পুড়ে যায়।

মাধবদী ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. রায়হান বলেন, খবর পেলেও স্থানীয় লোকজনের বাধায় আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। ফলে চারটি বাড়ির প্রায় সব কিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এবিষয়ে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, প্রেমিক-প্রেমিকা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একজনকে কুপিয়ে আহতের ঘটনা ঘটেছে। এরই জেরে মাধবদীর প্রেমিকার বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে দেখার পাশাপাশি অপরাধীদের ধরতে কাজ করছে। রাতেই থানায় একটি মামলা দায়ের হওয়ার ভিত্তিতে আল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান।