বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা : বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী বিচার ব্যবস্থায় মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ সকল শহীদদের স্মরণে নাটোরের বড়াইগ্রামে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে তারা যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্তরা জুডিশিয়াল কিলিংয়ের শিকার দাবি করে এসব হত্যাকান্ডসহ জুলাই বিপ্লবের গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
মঙ্গলবার বিকালে বড়াইগ্রাম পৌরসভা চত্ত্বরে পৌর, বড়াইগ্রাম ও জোনাইল ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসাইন খাঁন। উপজেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী আবু বকর সিদ্দিকের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী ও নাটোর-৪ আসনের এমপি প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হাকিম। সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে জেলা মসজিদ মিশন একাডেমীর সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসাইন, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা হাশেম আলী মীর, জয়েন্ট সেক্রেটারী হাসানুল বান্না উজ্জল, পৌর জামায়াতের আমীর আলমাস সরদার ও সেক্রেটারী আব্দুল্লাহ আল মামুন, বড়াইগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর জয়নাল আবেদীন ও সেক্রেটারী আবু তালেব, নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর হাসিনুর রহমান, জোনাইল ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর হাফেজ মাহবুবুর রহমান, জেলা ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা সম্পাদক নাজমুল ইসলাম ও উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আশিকুজ্জামান আকাশ বক্তব্য রাখেন।
শিশু সায়মনকে হত্যার দায়ে ভগ্নিপতির মৃত্যুদ-॥ শ্যালিকার যাবজ্জীবন
কুমিল্লা অফিস : কুমিল্লা তিতাসে সাময়ন আরিয়ানকে হত্যা অভিযোগে একজনকে মৃত্যুদ-; আরেকজনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন কুমিল্লার আদালত। সম্প্রতি কুমিল্লার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক সাব্বির মাহমুদ চৌধুরী এ রায় দেন।
মৃত্যু দ-প্রাপ্ত আসামী বিল্লাল পাঠান হলেন- কুমিল্লা তিতাস উপজেলার বিরামকান্দি পাঠান বাড়ী’র মোঃ খেলু পাঠানের ছেলে এবং যাবজ্জীবন কারাদ- প্রাপ্ত আসামী শেফালী আক্তার (৪৩) হলেন একই উপজেলার কলাকান্দি উত্তর পাড়া মাষ্টার বাড়ীর জামাল মিয়ার স্ত্রী।
মামলার বিবরণে জানাযায়- পূর্ব আক্রোশের বশবর্তী হইয়া আসামীরা পরস্পর যোগসাজশে ভিকটিম সায়মন ওরফে আরিয়ান (৭)কে হত্যা করিয়া কলাকান্দি বালুর মাঠে (কাঁশ বনে) লাশ গুম করে। জানা যায়- ২০২৩ সালের ১৮ আগস্ট বিকেলবেলা ভিকটিম সায়মন ওরফে আরিয়ান আসামী শেফালী আক্তারের ছেলে রাফি’র সাথে খেলাধুলা করার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে বাড়িতে ফিরে না আসায় বাদীনি তাঁর আত্মীয় স্বজনের সহায়তায় সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি না পেয়ে বাদীনি তিতাস থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন এবং পরদিন ঘটনাস্থলে ভিকটিমের অর্ধগলিত লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট নিহতের গর্ভধারিনী মাতা খোর্শেদা আক্তার (৪০) বাদী হয়ে তিতাস থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করিলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মোঃ নয়ন মিয়া ও সাব-ইন্সপেক্টর মোঃ জাহিদুল হক এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার সাব-ইন্সপেক্টর জীবন বিশ্বাস তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট আসামী শেফালী আক্তার ও একই বছর ৩১ ডিসেম্বর আসামী মোঃ বিল্লাল পাঠানকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করিলে আসামী মোঃ বিল্লাল পাঠান ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৬৪ ধারার বিধানমতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। তৎপর তদন্তকারী কর্মকর্তা জীবন বিশ্বাস ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর আসামী বিল্লাল পাঠান ও শেফালী আক্তার এর বিরুদ্ধে দ-বিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারার বিধানমতে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তৎপর মামলাটি বিচারের জন্য বিজ্ঞ আদালতে আসিলে চলতি বছর ২৭ ফেব্রুয়ারী তাহাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় চার্জগঠনক্রমে রাষ্ট্র পক্ষে ১৫জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক শুনানি অন্তে আসামী মোঃ বিল্লাল পাঠান এর বিরুদ্ধে দ-বিধির ৩০২/৩৪ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মহামান্য হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদ- এবং ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা অর্থদ- অনাদায়ে আরো ০১ (এক) বছর বিনাশ্রম কারাদ- এবং দ-বিধির ২০১ ধারার বিধানমতে তাকে ৫ (পাঁচ) বছরের সশ্রম কারাদ- এবং ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা অনাদায়ে আরো ৬ (ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদ- প্রদান করেন। রায়ে আরও উল্লেখ করেন যে, মৃত্যুদ- না হওয়া পর্যন্ত আসামীকে গলায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করার নির্দেশ প্রদান করা হল।